kalerkantho


‘২০১৪ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘২০১৪ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে না’

‘আগামী নির্বাচনে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগের ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস করেছেন। এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, কারণ সাংবিধানিকভাবে এটি বৈধ। কিন্তু নৈতিক দিক থেকে এটিকে নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ছিল যে এটি একতরফা একটি নির্বাচন হয়েছে। এসবের কোনোটাই এবার হবে না।’ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগকে যে পরিস্থিতিতে নির্বাচন দিতে হয়েছিল, সেটাও এবার হবে না। আর বিএনপিও ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না বলে আমরা আশা করি।’

গত সোমবার রাতে টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের জনতন্ত্র গণতন্ত্র অনুষ্ঠানে ‘নির্বাচনী পদ্ধতি এবং রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় নূহ-উল-আলম লেনিন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সামিয়া রহমান।

লেনিন আরো বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কখনোই বলা হয়নি যে সেটি আদর্শ নির্বাচন হয়েছিল। বরং বলা হয়েছে যে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনটি হলে এটি আরো গ্রহণযোগ্য হতো। ওই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের কোনো সংজ্ঞাতেই আদর্শ নির্বাচন বলা যায়নি। তবে সেটি বৈধ নির্বাচন। ওই নির্বাচনের কোনো বিকল্প ছিল না। বিএনপি যা-ই বলুক, এই পার্লামেন্ট অবৈধ নয়। কিন্তু এটি আদর্শও নয়। সুতরাং আমরা আবারও একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করব, এটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে ভুল করেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই সময় নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্রসহ যেকোনো মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তারা নির্বাচনে অংশ নিলে পার্লামেন্টারি পার্টি হিসেবে থাকতে পারত। নির্বাচনে অংশ নিয়ে সুষ্ঠু না হলে সরে আসার বহু সুযোগ তাদের ছিল। কিন্তু তারা মনে করেছিল, নির্বাচনে অংশ না নিলে পরে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো পন্থায় একটি শক্তি আসবে। বিএনপি যে ভুল করেছিল এটা তারা স্বীকারও করে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে জনগণ ও বিরোধী দলগুলোর যে ভাবনা তা আসেনি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা আমার মনঃপূত হয়নি। তিনি সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে সব দল, অন্তত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কী করণীয় তা স্পষ্টভাবে বলতে পারতেন। অতীতে কখনো ফোন করেছি, কেউ ফোন ধরেনি... ইত্যাদি না হয় আগামী নির্বাচনের জন্য ভুলেই গেলাম। সংবিধানে নির্বাচন নিয়ে কী লেখা আছে না আছে, তা আমরা জানি। কিন্তু সংবিধান তো কোরআন নয় যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। পরিবর্তন করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জাতি আশা করেনি। সবার কাছে এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয়নি।’

এই বিএনপি নেতা আরো বলেন, “নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কৌশল থাকে। বিএনপিরও একটি কৌশল আছে। সেটি তো এখানে প্রকাশ করতে পারব না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। অন্যদিকে তাদের জোটের মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায় তা স্পষ্ট করতে হবে। কিছুদিন আগে সরকারপ্রধান বলেছেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক আমরা চাই। আগামী নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলেও আমি আশা করি।’ এই কথায় ফিরে এলে নিশ্চয় একটা পথ বের হয়ে আসবে। কারণ এবার বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তাই খালেদা জিয়ার মামলা, গুম-খুন ইত্যাদি ভুলে গিয়ে সংবিধান-সংবিধান না বলে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে একটি আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা উচিত, যেটি খালেদা জিয়া বলা শুরু করেছেন।”


মন্তব্য