kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা ইবাদত

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা ইবাদত

৯০. আল্লাহ ইনসাফ, এহসান ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। [সুরা : নাহল, আয়াত ৯০ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে ইনসাফ, এহসান ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি অনুগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সাধারণত রক্ত, বংশ কিংবা বৈবাহিকসূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। অনেক সময় বন্ধুত্ব থেকেও আত্মীয়তার মতো সম্পর্ক তৈরি হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যাবশ্যকীয়। মহান আল্লাহ আত্মীয়-স্বজনের অধিকারের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে। আর তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অন্যের কাছে চাও। তোমরা সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের পর্যবেক্ষক।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ঈমানের দাবি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৩৮)

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে করণীয় হলো—তাদের নিঃস্বার্থে ভালোবাসা, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, তারা অর্থকষ্টে ভুগলে যথাসাধ্য সহায়তা করা। মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা, তাদের মাধ্যমে কষ্ট পেলে সহ্য করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ না ঘটানো। সর্বোপরি তাদের সঙ্গে সালাম-কালাম, হাদিয়া-উপঢৌকন আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৪)

পরিবারের ভরণ-পোষণ বাহ্যত পার্থিব বিষয় মনে হলেও এটি একটি মহান দ্বিনি দায়িত্ব ও কর্তব্য। কোরআন ও হাদিসে অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির চেয়ে এ অধ্যায়টিকে কোনো দিক দিয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিজের ও পরিবারের জন্য বৈধ রিজিকের সন্ধান করাও একজন মুসলিমের ফরজ দায়িত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘হালাল রিজিকের সন্ধান করা অন্যান্য ফরজ ইবাদতের পর অন্যতম একটি ফরজ।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ৯৯৯৩)। অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মানুষের সর্বোত্তম মুদ্রা সেটি, যা সে তার পরিবারের খরচে ব্যয় করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯৯৪)

অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার পরিবারে যা খরচ করে, তাও সদকাস্বরূপ, অর্থাৎ এতেও সে সদকার সওয়াব পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪০০৬)

তবে দান ও খরচের ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রয়োজন ও আত্মীয়তার স্তরের প্রতি খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে—‘আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন একে অন্যের তুলনায় অগ্রগণ্য। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে মহাজ্ঞানী।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৭৫)

আত্মীয়-স্বজনের ব্যয়ভার বহন করা ও সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সুফল মানুষ দুনিয়ায়ই লাভ করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিকের প্রশস্ততা ও হায়াত বৃদ্ধি চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য