kalerkantho


‘মোদি সরকার মমতার বিরুদ্ধে যেতে চায় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘মোদি সরকার মমতার বিরুদ্ধে যেতে চায় না’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, তিস্তা চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেরও একটি স্বার্থ আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটাকে ব্যবহার করছেন। এটা রাজনৈতিক একটি ইস্যু। এ ব্যাপারে দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী মোদি সরকার ইচ্ছা করলে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি সত্ত্বেও একটি চুক্তি করতে পারে। এখন ভারত সরকারের আন্তরিকতার বিষয়টি দেখতে হবে। আসলে মোদি সরকার সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে যেতে চায় না। এ জন্যই তিস্তা চুক্তি আটকে আছে।

অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান সোমবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের টক শো রাজকাহনে ‘তিস্তা চুক্তি হবে কবে?’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন। এটি সঞ্চালনা করেন নবনীতা চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, ভারত একটি স্বাধীন দেশ। ঢাকা কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে। তবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মাথা ঘামাব না। তিস্তার এ চুক্তিটা অন্তর্বর্তীকালীন। তিস্তা চুক্তিতে তিনটি ইস্যু আছে। প্রথম ইস্যু হচ্ছে শুকনো মৌসুমের পানি। শুকনো মৌসুমে বণ্টনের প্রয়োজন কেন হচ্ছে? কারণ দুই দেশের যে চাহিদা তার চেয়ে সক্ষমতা কম। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ যে চাহিদার কথা বলছে, পানি আছে তার তিন ভাগের এক ভাগ। বণ্টনটা প্রয়োজন হয় যখন ঘাটতি আছে। কাজেই আমরা ঘাটতিটা বণ্টন করব। এটা হচ্ছে শুকনো মৌসুমের সমস্যা।

দ্বিতীয়টি হলো বর্ষাকালের সমস্যা। বর্ষাকালে এত বেশি পানি, তখন বন্যা হয়। সিকিমে বর্ষার পানি ধরে রাখার প্রচুর জায়গা আছে। পানি তিন লাখ কিউসেকের বেশি হলে নদী কানায় কানায় ভর্তি হয়। চার লাখ হলে বন্যার অবস্থা হয় এবং চার লাখের ওপরে হলে তিস্তা নদী বাঁচাতে পাশের বাঁধ কেটে দিতে হয়। গত বছর  কাটতে যাওয়ার সময় পানিটা কমে যায়। পানি চার লাখ কিউসেক ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আর শুকনো মৌসুমে আছে ছয়, সাত, আট হাজার কিউসেক। তাহলে একই নদীতে ছয় হাজারের সমস্যা একটা আর চার লাখের সমস্যা আরেকটা।

তৃতীয় সমস্যা হলো কুড়িগ্রাম বা লালমনিরহাটে গেলে এক ধরনের মাছ খাওয়ায়, যার নাম বৈরালি। অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য। শুনেছি বঙ্গবন্ধু যখন মিটিং করতে বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ওই এলাকায় যেতেন তখন তাঁকে বৈরালি মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। এই মাছের উৎপাদনের জন্য তিস্তা নদীতে সারা বছর পানি প্রয়োজন। অর্থাৎ অববাহিকায় যে ইকো সিস্টেম আছে তার একটি ডিমান্ড আছে। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে বলতাম, একটি অংশ ভারত এবং একটি অংশ বাংলাদেশ নেবে আর মাঝখানে ইকো সিস্টেমের জন্য একটি অংশ থাকবে। আমার জানা মতে, শুকনো মৌসুমের পানি বণ্টনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অনুস্বাক্ষর হয়ে গেছে। এখন দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে এটি চূড়ান্ত করতে হবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে এটি এখনো সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ তাদের চাপ অব্যাহত রাখবে এবং ভারতের যে সমস্যা আছে সেটা তারা সমাধানের চেষ্টা করবে। দায়টা পুরোটাই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি স্বাধীন দেশ। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই দুই দেশ তিস্তা সমস্যার সমাধান খুঁজবে—এটাই প্রত্যাশিত এবং এটাই আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস। কিন্তু যেটা হয়, যেহেতু আমাদের চেয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভিন্ন, আমাদের সিদ্ধান্তের জায়গা একটা আর ভারতের কয়েকটা। সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকবে ভারতের সঙ্গে চুক্তি—এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমতের সুযোগ নেই। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় আমাদের কাজে আসতে পারে। আজকালের কূটনীতির ধরন সেই ট্র্যাডিশনাল ফরম্যাটে নেই। এখন ইনোভেশন হচ্ছে। আমার স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার যেটুকু ইনোভেশন দরকার সেটুকু করব, সেটা আমার মূল লক্ষ্যে যাওয়ার যে পদ্ধতি বা ভিত্তি সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

 


মন্তব্য