kalerkantho


‘সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অযৌক্তিক’

ইসফাক ইলাহি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অযৌক্তিক’

‘ঠিক এক বছর আগে সিরিয়ায় এ ধরনের হামলা হয়েছিল। আসাদ সরকার তার জনগণের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র (কেমিক্যাল উইপনস) ব্যবহার করেছে, এমন অভিযোগ নিয়েই হামলা হয়েছিল। এবার আবারও সে ধরনের হামলা হলো। এটা এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন। রাসায়নিক অস্ত্র কিন্তু একটি ভোঁতা অস্ত্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এটির ব্যবহার হয়েছিল, তখনো এটি অ্যাকুরেট উইপনস ছিল না, এটি নিজেদেরও আক্রান্ত করে। এরপর বিশ্বব্যাপী এটি বন্ধ করা হয়েছে। আরো অনেক উইপনস আছে, যেমন ক্লাস্টার বোমা—রাশিয়া, আমেরিকা ব্যবহার করেছে। এগুলো এখন নিষিদ্ধ। সিরিয়া নিষিদ্ধ উইপনস ব্যবহার করেছে—সেই অভিযোগে আক্রমণ করা হয়েছে।’

রবিবার রাতে টেলিভিশন চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে ‘বিশ্বরাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বোরহানুল হক সম্রাট।

ইসফাক ইলাহি চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে সিরিয়ার ৭০ শতাংশ মানুষ আসাদ সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ কুর্দি; তারাই কিন্তু আইসিসের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ করে রাকা থেকে তাদের বের করে দিয়েছে। আইসিস প্রায় ২ শতাংশের মতো আছে, মরুভূমিতে। ক্ষুদ্র একটি অংশ সিরিয়া ও ইসরায়েলের সীমান্তে আছে। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামের একটি গোষ্ঠী আছে, পশ্চিমা শক্তি তাদের তৈরি করেছে। যুদ্ধ তারা কিছুই করেনি, বরং যা অস্ত্র পেয়েছে তা আইসিসকে দিয়েছে। আসাদ সরকার ও কুর্দি বাহিনী যখন সমাধানের দিকে যাচ্ছিল তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা অযৌক্তিক এবং একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি। জাতিসংঘে চীন ও রাশিয়া এ কথা কড়াভাবে বলেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন বলেন, গত সাত বছরে সাড়ে তিন লাখ সিরিয়ান মানুষ মারা গেছে। এটা খুব দুঃখজনক ঘটনা। কোনো কোনো রাষ্ট্র এ সংখ্যা বলতে চায় না। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী তিন লাখ ৩৮ হাজার লোক মারা গেছে। এখন নতুন সংখ্যা যোগ হয়েছে। তিনি বলেন, এ হামলার দুটি কারণ থাকতে পারে। আগে মারণাস্ত্র থাকার অভিযোগে ইরাককে ঘায়েল করা হয়। এরই পুনরাবৃত্তি হলো বলে মনে হয়। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, সাত বছর ধরে যুদ্ধের পর একটি সমাধান হয়ে যাচ্ছিল, আসাদ বিজয়ী হয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন বা তাঁর অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। এটা নতুন কিছু নয়, পশ্চিমারা এমন করে থাকে। তবে যে অভিযোগ দিয়ে হামলা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আসছে। কয়েক বছর আগে আসাদ সরকার জাতিসংঘকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়েছে যে তাদের কাছে কোনো কেমিক্যাল উইপনস নেই। শুধু ক্ষমতার দাপটে এই হামলা হচ্ছে। এতে সব দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের তিনটি সদস্য রাষ্ট্র মিলে হামলা চালাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হবে না। তবু জাতিসংঘ থাকলে কিছু কথা বলার সুযোগ থাকে। দায়বদ্ধতার কারণে কেমিক্যালের কারণ দেখিয়ে হামলা করা হয়েছে। তা না হলে এমনিতেই বলা হতো যে তাঁকে (আসাদকে) সরাও।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, আরব লীগের ২২টি সদস্য দেশ আছে। তাদের ধর্ম ও ভাষা এক। সবাই মুসলিম এবং তাদের ভাষা আরবি। সব কিছু এক হওয়ার কারণে ২২টি দেশের তো এক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি; তাদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। খলিফার আমল শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভক্তি শুরু হয়। শিয়া-সুন্নি এবং বিভিন্ন মাজহাব এসে যায়। কোরআন বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরআনে শিয়া-সুন্নি বলে কিছু নেই; মাজহাবও নেই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। আরবরা মনে করে তারা কুলীন, অনারবরা কুলীন নয়। অথচ মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, আরব-অনারবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবাই সমান, মুসলমানরা সবাই ভাই ভাই। হয়তো বিভক্তির আভাস পেয়েই তিনি এ কথা বলেছিলেন।


মন্তব্য