kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা নূহ (আ.)-এর কর্মপন্থা

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা নূহ (আ.)-এর কর্মপন্থা

৩. নূহের সঙ্গে আমি যাদের (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম তোমরা তো তাদের বংশধর। সে তো ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মুসা (আ.)-কে হেদায়েতের আলোকবর্তিকা হিসেবে বনি ইসরাঈল জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে বনি ইসরাঈলের একটি পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, নূহ (আ.)-এর যুগের প্লাবন থেকে যারা রক্ষা পেয়ে নৌকায় আরোহণ করেছিল, বনি ইসরাঈল তাদের বংশধর। আর নূহ (আ.) আল্লাহর পরম কৃতজ্ঞ বান্দা ছিলেন। আল্লাহর প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা এভাবে প্রকাশিত হয়েছিল যে তিনি তাঁর জাতিকে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করেছেন। আর যারা নূহ (আ.)-এর সঙ্গে প্লাবন থেকে রেহাই পেয়েছিল, তারা ছিল বিশুদ্ধ একত্ববাদের অনুসারী। সুতরাং তাদের বংশধর হিসেবে বনি ইসরাঈলের উচিত তাওহিদের পথে নিজেদের জীবন পরিচালিত করা।

নূহ (আ.) ‘আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা’ উপাধিতে ভূষিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাফসিরবিদদের বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। সহিহ ইবনে হিব্বানে সালমান ফারসি (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে নূহ (আ.)-কে আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা বলার কারণ হলো, তিনি যখন পোশাক পরিধান করতেন বা খাবার গ্রহণ করতেন তখন ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলতেন। (তাফসিরে তাবারি)। ইমাম মালেক (রহ.) জায়েদ বিন আসলাম (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘নূহ (আ.) সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদু লিল্লাহ পাঠ) করতেন।’ (ইবনে কাসির)

ইমরান বিন সালিম (রহ.) বলেন, “নূহ (আ.)-কে আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা বলার কারণ হলো, তিনি যখন খাবার গ্রহণ করতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে খাবার খাইয়েছেন, তিনি চাইলে আমাকে ক্ষুধার্ত রাখতে পারতেন।’ যখন তিনি পান করতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে পান করিয়েছেন, তিনি চাইলে আমাকে পিপাসিত রাখতে পারতেন।’ যখন তিনি পোশাক পরিধান করতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বস্ত্রাবৃত করেছেন, তিনি চাইলে আমাকে বিবস্ত্র রাখতে পারতেন।’ আর যখন তিনি জুতা পরিধান করতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে জুতা পরিধান করিয়েছেন, তিনি চাইলে আমাকে খালি পায়ে রাখতে পারতেন।’ যখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে আসতেন তখন বলতেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কাছ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু বের করে দিয়েছেন, তিনি চাইলে তা আমার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারতেন।’” (তাফসিরে তাবারি)

মানব অস্তিত্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু আল্লাহর অনুগ্রহবেষ্টিত। অর্থ-সম্পদ, সন্তানাদি, সম্মান-মর্যাদা-নেতৃত্ব ও সুস্থতা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। উঠতে-বসতে, নিদ্রা-জাগরণে, ঘরে-বাইরে সর্বত্রই মানুষ আল্লাহর নিয়ামতের সাগরে ডুবে আছে। এ নিয়ামত গণনার সাধ্য নেই কারো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা করতে চাও, তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩৪)। তাই বান্দার উচিত আল্লাহর মর্জিমাফিক জীবন পরিচালনা করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানদারের জীবনাচার কত আশ্চর্য ধরনের! তার সব কিছুই কল্যাণকর। এটা শুধু ঈমানদারের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সচ্ছলতায় সে শুকরিয়া আদায় করে। সেটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, তাহলে সে ধৈর্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য