kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী

জমিদার, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর জন্ম ১৮৬৩ সালে নাটোরে। তাঁর বাবা আলী চৌধুরী ছিলেন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ীর জমিদার, মা রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি নিজেকে হজরত আবু হানিফার বংশধর বলে দাবি করতেন। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে শিক্ষালাভ করেন। ইংরেজি, বাংলা, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করে তিনি ময়মনসিংহের অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু বাংলার মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে অচিরেই তিনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯০৬ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য, ১৯১২ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য এবং ১৯১৬ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত ভারতের ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মন্ত্রী পদে আসীন হন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি কৃষি, শিল্প, গণপূর্ত ও আবগারি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য ও প্রেসিডেন্সি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। নিজের লেখার পাশাপাশি তিনি বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৃষির অগ্রগতির জন্যও তিনি সার্বিক চেষ্টা করেছেন। ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে খানবাহাদুর, ১৯১১ সালে নওয়াব, ১৯১৮ সালে সিআইই এবং ১৯২৪ সালে নওয়াব বাহাদুর উপাধি প্রদান করে। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি দার্জিলিং শহরে ইন্তেকাল করেন।

[বাংলাপিডিয়ার সৌজন্যে]


মন্তব্য