kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

মেহেদী হাসান

উপমহাদেশের প্রবাদপ্রতিম গায়ক ও গজলশিল্পী মেহেদী হাসানের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৮ জুলাই ভারতের রাজস্থানে। তিনি গজলসম্রাট নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর বাবার নাম ওস্তাদ আজিম খান। বাবার কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। তাঁর বাবা ও চাচা উভয়েই সনাতন ঘরানার ধ্রুপদী সংগীতে দক্ষ ছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি সংগীত পরিবেশন করতেন। ভারত বিভাজনের পর ২০ বছর বয়সে তিনি ও তাঁর পরিবার পাকিস্তানে অভিবাসিত হন। সেখানে তাঁকে ব্যাপক অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগতে হয়। তিনি একটি সাইকেলের দোকানে কাজ করতেন। আর্থিক অসচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও সংগীতচর্চা করতে থাকেন। ১৯৫২ সালে প্রথমবারের মতো তিনি রেডিও পাকিস্তানে গান করার সুযোগ পান। প্রাথমিকভাবে সেখানে তিনি ঠুমরি গায়ক ছিলেন। চাচা তাঁকে সংগীত পরিচালকরূপে গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। পরীক্ষামূলকভাবে খণ্ডকালীন ভিত্তিতে তিনি গজল গাইতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংগীত ঘরানায় জনপ্রিয় গজল গায়কে পরিণত হন। তিনি পাকিস্তান সরকারের তরফে তমঘা-ই-ইমতিয়াজ, প্রাইড অব পারফরম্যান্স ও হিলাল-ই-ইমতিয়াজ এবং নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে গোর্খা দক্ষিণা বাহু উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। আশির দশকের শেষার্ধ থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অসুখবিসুখে আক্রান্ত হতে থাকেন। ফলে তিনি সংগীতজগৎ ত্যাগ করেন। ২০১০ সালে এইচএমভি থেকে সারা দিন শিরোনামে দ্বৈতগানের অ্যালবাম প্রকাশ করে। এটি ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ দ্বৈতগানের অ্যালবাম। এতে ‘তেরে মিলনা’ গানে লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে গান করেন তিনি। গানটির সুরকার ছিলেন তিনি স্বয়ং, গানটি লিখেছিলেন ফারহাত শাহজাদ। ২০১২ সালের  ১৩ জুন করাচিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য