kalerkantho


‘কিম-ট্রাম্প বৈঠকই একটি পাওয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘কিম-ট্রাম্প বৈঠকই একটি পাওয়া’

‘কিম-ট্রাম্প বৈঠক এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে কোরীয় যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর যুদ্ধবিরতি থাকলেও শান্তিচুক্তি হয়নি, একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। ৭০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলো। তাঁরা একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখে আসার কারণেই এ ধরনের বৈঠক হয়নি। এখন বন্ধুত্বের সূত্রপাত ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এটিকে সফল চেষ্টা বলা যায়। কিম-ট্রাম্প বৈঠকই সবার জন্য একটি পাওয়া; বিশেষ করে কিম জং উন একঘরে হয়ে ছিলেন, তিনি মূল স্রোতধারায় ফিরে আসছেন। এবং বৈধতা পাওয়া—এটি কিমের জন্য একটি প্রাপ্তি। আর যা কিছু পাওয়া যাবে, তা তো আছেই।’

মঙ্গলবার রাতে ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে ‘কিম-ট্রাম্প বৈঠক ঐতিহাসিক কেন?’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নবনীতা চৌধুরী।

মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘ট্রাম্পকে কিছুদিন ধরে দেখছি তিনি নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলছিলেন নানা কারণে। সর্বশেষ জি-৭ সম্মেলনে মিত্রদের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া বেধে গেল এবং তিনি একঘরে হয়ে গেলেন। সেই অবস্থা থেকে নতুন করে ফিরে আসার একটি সুযোগ তৈরি হলো এই বৈঠকের মাধ্যমে। ফিরে আসার একটি চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, সবাই তাঁকে সাধুবাদ দিচ্ছেন এবং আশা করছেন যে এর থেকে বড় কিছু হবে। আর যাঁরা এত দিন তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করলেন তাঁরাও এখন অন্যভাবে দেখছেন। এগুলো ট্রাম্পের জন্য বড় পাওয়া। আর পুরো পৃথিবীর জন্যও বড় প্রাপ্য। এটি একটি বড় কাঁটা হয়ে ছিল।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি কিমের কাছে যাব, দেখা হবে—সেটাই সেন্টার পয়েন্টে থাকবে।’ সেদিক থেকে বৈঠকের যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। দুই নেতা যেভাবে কথা বলেছেন, মনে হচ্ছে তাঁদের মধ্যে ইতিবাচক একটি ভাববিনিময় হয়েছে। কোরীয় যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু নীতিগতভাবে কোরিয়াকে কোণঠাসা করতে ৭০ বছর ধরেই চেষ্টা করে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মূলত এই চেষ্টা আছে। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটনের সময় একটি ডিল হয়েছিল, ফ্রেমওয়ার্ক হয়েছিল, ২০০৫ সালে একটি হয়েছে। কিন্তু দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান খুব বেশি হওয়ায় এগুলো বেশি দূর এগোয়নি। উত্তর কোরিয়া কিন্তু সেই দূরত্বটা ব্যালান্স করার জন্যই পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে গেছে। এখন একটা জায়গায় এসেছে, যেখানে দুই পক্ষেরই আর সামনে যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়েই তাদের আলোচনায় বসতে হয়েছে। তা ছাড়া এ বৈঠক থেকে গত এক মাস যে ড্রামা হয়েছে, একবার ট্রাম বাতিল করলেন আবার সময় দিলেন, শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি হয়েছে—এটিও এ বৈঠকের একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এত দিন উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। তারা পরস্পর পরস্পরকে শত্রু হিসেবে দেখত। এখন বলা হচ্ছে যে তারা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। যদি সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাহলে দুই দেশ দুই দেশে দূতাবাস স্থাপন করতে পারবে। এতে নরমাল কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, কিম-ট্রাম্প বৈঠক নিশ্চয়ই ঐতিহাসিক। বৈঠকটি হয়েছে কোরিয়ার কাছের রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে। ট্রাম্প এসেছেন, কিম যাননি। এর আগে যত প্রেসিডেন্ট আমেরিকায় এসেছিলেন, তাঁরা কেউ এ ধরনের বৈঠক করেননি। তাই কিম-ট্রাম্প বৈঠক ঐতিহাসিক। যে আশা নিয়ে বিশ্ব এ বৈঠককে দেখছে সেটি হচ্ছে—যেকোনোভাবে কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করা। এটি যদি এ বৈঠকের মাধ্যমে শুরু হয়, তাহলে তো এটি ঐতিহাসিক হবেই। সেখান থেকে যদি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক।


মন্তব্য