kalerkantho


বিশেষ সাক্ষাৎকার ► অধ্যক্ষ মতিউর রহমান

এবারও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের বাইরে যাব না

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



এবারও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের বাইরে যাব না

আমাকে ময়মনসিংহের জনগণ চায়, তবে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার। গতবারও তাঁর কথায় আমি নির্বাচন থেকে সরে ছিলাম। এবারও তাঁর নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তবেই আমি আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে ময়মনসিংহে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করব। এমনটা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতা ধর্মমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোশতাক আহমদ

 

কালের কণ্ঠ : আপনি তো এখন মন্ত্রী হয়েছেন। এর আগে বিএনপির সরকার আমলে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে মন্ত্রিত্বকে কিভাবে নিচ্ছেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : এর জন্য আমি প্রথমে জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি লাখো কোটি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কারণ তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন না করলে আমরা এ দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারতাম না। তবে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।

কালের কণ্ঠ : হজ ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এবার হজ অনেকে করতে যাচ্ছে। প্রতিবারই কিছু না কিছু হজযাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়। এবার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আলহামদুলিল্লাহ। এবার আশা করছি হজে কোনো অনিয়ম হবে না। কারণ গত বছর থেকেই হজে ডিজিটাল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আইনের বাইরে কারো কিছু করার সুযোগ নেই। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগিয়ে হজ গমন ত্রুটিমুক্ত ও সহজ করতে প্রাক-নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাঁরা হজে যেতে চান, তাঁদের প্রথম ধাপে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। প্রাক-নিবন্ধন তালিকা থেকে দ্বিতীয় ধাপের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শেষ করে হজযাত্রীরা হজের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এখন শুধু অপেক্ষা সৌদি আরবে যাওয়ার।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে প্রায় ৭৮ হাজার আলেম-উলামার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। 

কালের কণ্ঠ : এবার তো রমজান মাস শেষে আমরা পবিত্র ঈদ পালন করলাম। এখনো ঈদের আমেজ কাটেনি। এর মধ্যে শুনলাম আগামী মাসেই হজের ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। এ বছরের ১৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এরই মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ ভিসা প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অতীতে দেখা যেত রমজান মাস শেষে ঈদের পরপরই এসব কাজ শুরু হয়। তবে এবার রমজানের শুরুতেই এসব কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। তাই আশা করি, হজ ফ্লাইট নিয়ে এবার কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।

কালের কণ্ঠ : হজপ্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন নিয়ে কিছু বলুন। কারণ আপনার আমলেই বাংলাদেশ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সৌদি আরব সরকারের পুরস্কার পেয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : হজের যেই অর্জনের কথা বললেন, এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্জন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহায়তা ছাড়া এত বড় হজ ব্যবস্থাপনা একা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে করা সম্ভব হতো না। তাই প্রধানমন্ত্রী এ অর্জনের জন্য ধন্যবাদ পাবেন। আমরা এ অর্জন তাঁর মাধ্যমেই দেশবাসীকে উৎসর্গ করছি। মন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য ই-ভিসা চালু করেছে। এই ভিসা পাসপোর্টের সঙ্গে লাগানো থাকে না। কাগজে প্রিন্ট করে দেবে। ফলে হজযাত্রীদের এটি আলাদা সংরক্ষণ করতে হবে। আগে পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসা লাগানো থাকত বলে আলাদা করে ভিসা সংরক্ষণের প্রয়োজন হতো না। এবার ই-ভিসা ও পাসপোর্ট বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ কাউন্টারে দেখাতে হবে। ইমিগ্রেশন পুলিশ পাসপোর্টের নির্দিষ্ট পাতায় সিল মারার পর তা যত্ন করে রাখতে হবে।

কালের কণ্ঠ : তিন-তিনবার ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো দুর্নীতি আপনাকে স্পর্শও করেনি। রাজনীতি করতে গিয়ে কারো কোনো ক্ষতিও করেননি। এর পরও কেন আপনাকে জিয়াউর রহমানের আমলে জেল খাটতে হয়েছিল?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান দূতের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালেন, ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ ভেঙে দিয়ে তাঁর দলে যেন যোগ দিই। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে জেল দেওয়া হলো। একটানা ২৩ মাস জেলে বন্দি থাকার পর হাইকোর্টের আদেশে আমি বেরিয়ে আসি। অনেক অত্যাচারিত হয়েছি। এর পরও আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাইনি। হয়তো এর জন্যই এখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের একজন সদস্য হিসেবে সম্মানিত করেছেন।

কালের কণ্ঠ : আপনি তো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছাড়াও একজন শিক্ষক। আপনার অগণিত ছাত্র-ছাত্রী ও ভক্ত রয়েছে। আপনি অধ্যাপক থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও জাতীয় স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারের পুরস্কার ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে ময়মনসিংহের রাজপথে আলমগীর মনসুর মিন্টু শহীদ হওয়ার পর তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে ওই বছরই প্রতিষ্ঠা করি আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজ। ওই সময় কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিই আমি। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কলেজটি থেকে কোনো বেতন-ভাতা না নিয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করি।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবসে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ঐতিহাসিক শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিই। মুক্তিযুদ্ধকালে তুরা ইয়ুথ ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলাম।

কালের কণ্ঠ : আপনি তো এখন ছেলেকেও রাজনীতিতে এনেছেন। আপনার ছেলে মোহিতুর রহমান শান্ত এখন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিভাবে দেখছেন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : ছেলের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। কারণ ছেলে মোহিতুর রহমান শান্ত ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কলেজ, এমনকি স্কুলজীবন থেকেই সে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, এখন আওয়ামী লীগ করছে। তার ব্যাপারে জনগণ আমার কাছে ভালোই বলছে। এর পরও আমি আমার ছেলেকে কোনো টাকার লোভ করতে না করেছি। আশা করি, সে-ও আমার মতো জনগণের সেবা করেই রাজনীতি করবে।

কালের কণ্ঠ : আপনার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কিছু বলুন?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আমি ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এমএসসি সম্পন্ন করি। এমএসসি পাসের পর জামালপুর জেলার নান্দিনা কলেজ এবং ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষকতা করি। অল্প কিছুদিন ময়মনসিংহ কলেজেও শিক্ষকতা করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তৎকালীন ঢাকা হল, বর্তমানে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলাম। ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৯৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট ১৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এ ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছি।

নবম সংসদে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য, জাতীয় সার সমন্বয় ও বিতরণ কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদস্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে একবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার এবং ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পর পর তিনবার সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেছি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দীর্ঘ ২৩ মাস কারাভোগ করি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি রণাঙ্গন ছেড়ে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করি। বৃহত্তর ময়মনসিংহে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলি।

একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষা অনুরাগী হিসেবে আমি বহু স্কুল ও কলেজ পরিচালনা করেছি। এ ছাড়া ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল কলেজ, ইসলামী একাডেমি, আকুয়াবাড়ী মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তা ছাড়া ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী আলমগীর মনসুর মিন্টুর নামে আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৪ বছর আমি এ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে আমি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম। অভিনয়, নাটক, আবৃত্তিসহ নানা প্রকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করি।

কালের কণ্ঠ : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার প্রথম সাক্ষাৎ ও তাঁর সান্নিধ্যে আসার স্মৃতি নিয়ে কিছু বলুন।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আমি আসলে জীবনে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাড়া অন্য কোনো দল করিনি। আমি তখনো ছাত্রলীগ করতাম। ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু ময়মনসিংহে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বাসায় এসেছিলেন। তখনই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিপুল লোকসমাগমের মধ্যেই ‘মতি, এদিকে আয়’ বলে ডেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন। সেই থেকে আর কখনো অন্যদিকে চোখ ফিরাইনি। বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিই। আজও সেই আদর্শ ধরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকব ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জীবনে অনেক জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছি, তবু কোনো অন্যায় ও দুর্নীতির কাছে কোনো দিন মাথা নত করিনি। আমি সৎ রাজনীতি করেছি। তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সততার পুরস্কার হিসেবে আমাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। সুদ, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকার পাহাড় জমিয়ে কোনো লাভ নেই। মৃত্যুর সময় সবাইকে খালি হাতেই কবরে যেতে হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি তো সারা জীবনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এসেছেন। আপনার পরিবারের সবাই কি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে, নাকি অন্য কোনো দলও করে?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : এটা কী বললেন! আমার পরিবারের কেউ অন্য দল করবে? তাকে তো আমি পরিচয়ই দেব না। না, আমি যেভাবে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে সম্মান করি, ভালোবাসি, তেমনি আমার পরিবারের সবাই একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে। এমনকি এ বয়সেও আমার স্ত্রী মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার সন্তানরাও আওয়ামী লীগের জন্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। আমার সহধর্মিণী নুরুন্নাহার বেগম শেফালী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। ছেলে মোহিতুর রহমান শান্ত জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। আমি চাই, আমার ছেলে সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক। সে যদি সৎ ও সাহসী হয়, তবে তাকে ময়মনসিংহের মানুষ আরো আপন করে নেবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি এখন আর শুধু ময়মনসিংহের নেতা নন। দলের জন্য, আদর্শের জন্য আপনার যে ত্যাগ তা এখন সারা দেশেই আলোচিত হয়। আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের প্রতি আপনার বক্তব্য বা চিন্তাভাবনার কথা কিছু বলুন।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : নতুন প্রজন্মকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিস্তার ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠকে যুবকদের একত্র করে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। শুধু সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হলে মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিও ভালোবাসা থাকবে।

কালের কণ্ঠ : আপনার ছোট ছেলে একজন আদর্শ চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু আজও ময়মনসিংহবাসীকে কাঁদায়। তাঁকে নিয়ে কিছু বলবেন কি?

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর ভালুকা উপজেলার ভরাডোবায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় আমার ছোট ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ। সে ছিল খুবই শান্ত, অমায়িক ও নিবেদিতপ্রাণ একজন চিকিৎসক। চিকিৎসায় আন্তরিকতার কারণেই মানুষ তাকে এখনো স্মরণ করে।

কালের কণ্ঠ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আপনাদেরও ধন্যবাদ।



মন্তব্য