kalerkantho


‘সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে’

‘নির্বাচন নিয়ে পর্দার আড়ালে কোনো আলোচনা না হলেও সামাজিকভাবে অনেক জায়গায় আমাদের রাজনীতিকদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়। আমরা তো আলোচনা করি, কথাবার্তা বলি। যেমন আমেরিকান দূতাবাসে একটি অনুষ্ঠানে সব দলের লোকজনই ছিল। সেখানে তো মতবিনিময় হয়েই থাকে। তবে আমাদের অবস্থান হলো সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের কথা বলছে, সেটা কোন বাক্সে রেখেছে জানি না। কখন বের করবে তা তারাই জানে। তবে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং বর্তমান সরকার দায়িত্বে থাকবে।’

মঙ্গলবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে ‘সরকার ও রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন। এটি সঞ্চালনা করেন খালেদ মুহিউদ্দিন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগ যতক্ষণ সরকারে আছে ততক্ষণ দেশ পরিচালনার জন্য যে রুটিন কর্মকাণ্ড আছে, উন্নয়ন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া—এসব কাজ তাদের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। ডিসেম্বরের শেষে যে নির্বাচন হবে সেটা যাতে স্বচ্ছ, সুন্দর হয় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘যুগে যুগে আন্দোলন হয়। তরুণরা অনেক কিছুর পরিবর্তন আনে। সমাজের পরিবর্তনে সাহায্য করে তরুণরা। তাই আমার সন্তান হুবহু আমার আদর্শই ধারণ করবে—এটা আমি আশা করি না। আমার সন্তান আমার চেয়ে আরো ভালো, নতুন কিছু, সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা নিয়ে আসবে বলে মনে করি। তবে পিছিয়ে পড়া এলাকার জন্য বিসিএস বা অন্য চাকরিতে জেলা কোটা থাকা দরকার। তাই আসাদুজ্জামান নূরের মেয়ে কোটা সংস্কারের পক্ষে, নাকি কোটা আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার পক্ষে কথা বলেছে কি না দেখতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী কিছু মানুষ ছাড়া দেশের সবাইকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। কমিউনিস্ট নেতাদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক অনেক ভালো। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। স্বাধীনতাবিরোধী, ধর্মান্ধদের পক্ষে আমি নেই।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রাজনীতির বিষয়টা কেমন হবে, তা সময় সব বলে দেবে। কারণ রাজনীতিতে সময় সময় ফুল ফোটে আবার সময় সময় ফুল ঝরে যায়। কাজেই এ বিষয়ে প্রশ্ন করার সময় এখনো হয়নি। গত দুটি সিটি নির্বাচনে দেখেছি—মানুষের কাছ থেকে ভোট নেওয়া সহজ হয়ে গেছে। আগে ভোট নিতে গেলে খুনাখুনি হয়ে যেত। এখন বেড়ায় ক্ষেত খেয়ে ফেলে। তাই খুনাখুনির দরকার হয় না। যাদের ভোট দরকার তারা সহজেই বাক্স ভরে ফেলতে পারে, কেউ বাধা দেয় না। আবার যাঁরা বাধা দেওয়ার জন্য থাকেন তাঁরাও বাধা দিতে পারেন না।’ তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছিলেন যে কোটা বাতিল। কোনো কোটা থাকবে না। তখন কোনো সংসদ সদস্য তো প্রতিবাদ করেননি যে জেলা কোটা, আদিবাসী কোটা, মুক্তিযোদ্ধা ও নারী কোটার প্রয়োজন আছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে যা ঘটে গেছে, তা অকল্পনীয়। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। উপাচার্যরা কিন্তু এভাবে পক্ষে-বিপক্ষে মুখ খোলেননি। উপাচার্যের বাসায় আগুন দেওয়া না হলেও অনেকবার হামলা হয়েছে। ছাত্ররাই সেই সময় গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। তখন সবাই তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন করেছে। সম্প্রতি কোটা আন্দোলন শুরু হলে সবাই এর পক্ষেই ছিল। উপাচার্যের বাসায় হামলা হলেও তিনি বলেছেন, এ আন্দোলন যথার্থ। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী এ হামলা করেছে। কিছুদিন হলো জঙ্গি সমস্যায় ভুগছে, আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। উপাচার্যও সেই আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কানেকশনে দিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি ছাত্রলীগের নেতাদেরও জঙ্গি বানানো হচ্ছে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী কোটার দাবি মেনে নিলেন, সেদিন কিন্তু তিনি বলেননি যে আপনাদের সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন আছে। কাজেই আপনাদের দাবি মানা যাবে না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দল। এখন একটা দল একটা ধর্মের মতো হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগ করে, আওয়ামী লীগের সন্তানরা আওয়ামী লীগ করে। এখান থেকে বিচ্যুত হয় না। মন্ত্রীর মেয়ে তার পিতার আদর্শই লালন করে। তবে বয়সে তরুণ হওয়ায় কোটা আন্দোলন বিষয়ে তার সহকর্মীদের পক্ষে কথা বলেছে অথবা সহমর্মিতা জানিয়েছে। এতে অন্যায় কিছু দেখছি না।’

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যা বলেন, তা সব ঠিক না। বাঁকে বাঁকে কথা পরিবর্তন হয়ে যায়। বিএনপির কাছে এখন প্রধান ইস্যু খালেদা জিয়ার মুক্তি, পরে নির্বাচন। এই মুক্তি কিভাবে হবে, তা জানি না। তবে খালেদার মুক্তি দুইভাবে হতে পারে। রাজনৈতিক মামলা কখনো কোর্ট-কাছারির মাধ্যমে সুরাহা হয়নি। হয় আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে, নয়তো সমঝোতার মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে। এখন বিএনপি যতই আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে। তিন মাস পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। তফসিল ঘোষণার সময় থেকে খেলা শুরু হয়ে যাবে। কোন দল নির্বাচনে আসবে, কিভাবে আসবে তখন এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।’

 

 



মন্তব্য