kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

প্রথমবার সৃষ্টির মতো পুনরুত্থান

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



প্রথমবার সৃষ্টির মতো পুনরুত্থান

৪৯. তারা বলে, আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণবিচূর্ণ হলেও কি নতুনরূপে উত্থিত হব?

৫০. বলে দাও, তোমরা হয়ে যাও পাথর বা লোহা—

৫১. অথবা এমন কিছু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন, তারা বলবে, কে আমাদের পুনরুত্থিত করবে? বলে দাও, তিনিই, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, তা কবে? বলো, সম্ভবত তা শিগগিরই হবে। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৯-৫১)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, অবিশ্বাসীরা মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে। তারা তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে। এটা করার স্পর্ধা তারা দেখাতে পারে এই কারণে যে তাদের মধ্যে পরকালের জবাবদিহির ভয় নেই। তাই আলোচ্য কয়েকটি আয়াতে পরকাল বিষয়ে অবিশ্বাসীদের সংশয় ও সন্দেহের অবসান ঘটানো হয়েছে। এ আয়াতে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীরা কিয়ামত ও পুনরুত্থান বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, অথচ পুনরুত্থান দিবস কিংবা কিয়ামতকে অস্বীকার করা এবং তা সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করার মতো কোনো যুক্তি-প্রমাণ নেই। ঘুরেফিরে তাদের একটি প্রশ্ন, ‘মানুষ মরে পচে যাওয়ার পর কিভাবে আবার জীবিত হবে?’ তারা কি ভুলে গেছে যে এই মানুষই আগে মাটি ছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন?

হাড়, মাংস ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং সহজ একটা ব্যাপার। মানুষ যদি মরে লোহা কিংবা পাথরেও পরিণত হয়, তথাপি মহান আল্লাহ মানবদেহের ওপর জীবনের পোশাক পরাতে সক্ষম।

মানুষের দুটি গন্তব্য রয়েছে—এক. ব্যক্তিগত পরিণতি, যাকে মৃত্যু বলা হয়। দুই. মানুষের সমষ্টিগত পরিণতি, যাকে কিয়ামত বলা হয়। মানুষ মরণশীল—এ নির্মম সত্যকে অদ্যাবধি কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। অমরত্বের সুধা পান করার অভিলাষ অনেকেই দেখিয়েছে, কেউ সফল হয়নি। কাজেই মৃত্যু মানুষের অনিবার্য নিয়তি ও পরিণতি। মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুকে যুক্তি ও প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে গোটা বিশ্বের ব্যাপক মৃত্যু অর্থাৎ কিয়ামতকে সপ্রমাণ করা স্বাভাবিক বিষয়। মানুষ একসময় এ পৃথিবীতে ছিল না। পর্যায়ক্রমে বংশপরম্পরায় তারা এ দুনিয়ায় আসে। কালক্রমে তারা নশ্বর এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। এভাবে মৃত (রক্ত-মাটি) জীবিত হওয়া এবং জীবিত বস্তু মৃত হওয়ার বহু নজির মানুষের সামনে প্রতিনিয়তই হাজির হয়। বিশাল এ পৃথিবী পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়া শূন্য থেকে অস্তিত্বে আনা যে স্রষ্টার কাজ; ধ্বংস হয়ে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া মৃত বস্তুকে আবার জীবিত করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব নয়।

পুনরুত্থান দিবস অস্বীকারকারীদের আরেকটি প্রশ্ন হলো, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য হলো, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। কিন্তু কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে না জানার মানে এই নয় যে কিয়ামত বলে কিছু নেই। বিষয়টি মৃত্যুর মতো। মানুষ কি জানে সে কখন মারা যাবে? মৃত্যুর সময় জানা না থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই যে একদিন সে মারা যাবেই! ঠিক তেমনি কিয়ামতের সময় সম্পর্কে মানুষ না জানলেও এটা নিশ্চিত যে একদিন অবশ্যই কিয়ামত কায়েম হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য