kalerkantho


নরসিংদী সদর হাসপাতাল

দালালমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান নারীসহ আটক ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



দালালমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান নারীসহ আটক ৯

নরসিংদী সদর হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতাল এলাকা থেকে দালাল সন্দেহে সাত নারীসহ ৯ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতাল দালালমুক্ত হলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ উন্নত হবে।

আটককৃতরা হলো শহরের সাটিরপাড়া এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে আসলাম মিয়া (৫২), সুনীলের স্ত্রী সাবর্তী (৪০), মৃত দিলীপ দাসের স্ত্রী ভবানী রানী দাস (৪০), মোখলেছের স্ত্রী রিনা বেগম (৩০), ঘোষপাড়া এলাকার অকন বিশ্বাসের স্ত্রী মনি রানী শীল (২৭), দত্তপাড়া এলাকার মোখলেছের স্ত্রী শিমু (৩২), ফারুক মিয়ার স্ত্রী লুবনা বেগম (২৫), সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়া এলাকার কাইয়ুমের ছেলে পাভেল (২৯) এবং শান্তিরভাওলা গ্রামের বাছেদ মিয়ার স্ত্রী আছলিমা (৩৫)।

পুলিশ ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদী সদর হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও ক্যাডারদের নাম ভাঙিয়ে দালালরা দিনের পর দিন নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। আর সুযোগ বুঝে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা উন্নত চিকিৎসার নামে অসহায় রোগীদের নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠছে তারা।

দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘একদিন প্রতিদিন’ শিরোনামে ধারাবাহিক সরেজমিন প্রতিবেদন ছাপা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে হাসপাতাল প্রশাসনের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি এরই মধ্যে পুলিশও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দালালদের তালিকা তৈরি করেছে।

গতকাল সকাল ১১টায় শুরু হওয়া পুলিশের অভিযানে হাসপাতাল এলাকা থেকে দালাল সন্দেহে সাত নারীসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। তবে আটককৃতদের মধ্যে শুধু মনি রানী শীল পুলিশের তালিকাভুক্ত দালাল। চিহ্নিত দালালরা আগেই পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে সরে পড়ে। সে কারণে জীবন আহমেদ শফিকসহ শীর্ষ দালালদের আটক করা যায়নি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আটককৃতদের কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিল বলে দাবি করে পুলিশকে টিকিট দেখিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এটা দালালদেরই একটি অপকৌশল।

আটককৃত আসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে রোগী হয়রানি ছাড়াও ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট তৈরি করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে পুলিশের এ অভিযানের পর পাল্টে যায় নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিত্র। দালালমুক্ত পরিবেশে গতকাল অনেকটা স্বচ্ছন্দে চিকিৎসাসেবা পেয়েছে রোগীরা। এতে খুশি চিকিৎসকরাও। পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরাও সব সময় দালালমুক্ত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে চাই। কিন্তু নানা জটিলতায় তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা যায় না। কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ, আপনাদের প্রতিবেদনের কারণেই আজকে হাসপাতাল দালালমুক্ত হয়েছে। এই পরিবেশ ধরে রাখতে দালালদের বিরুদ্ধে শুরু করা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। ’

অতীতে দালালদের আটক করলেও রাজনৈতিক চাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ।


মন্তব্য