kalerkantho


জলবায়ুর পরিবর্তনে ঋতুবৈচিত্র্যে প্রভাব

হারিয়ে যাচ্ছে হেমন্ত-বসন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



হারিয়ে যাচ্ছে হেমন্ত-বসন্ত

প্রকৃতির আচরণ দিন দিন বদলে যাচ্ছে। প্রকৃতিতে আবহাওয়ার খামখেয়ালি আচরণ মোটামুটি স্পস্ট।

ক্রমেই বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়ছে ষড়্ঋতু। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিইইইআর) দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা শ্যামনগর নিয়ে একটি গবেষণা করে দেখেছে, সেখানে ষড়্ঋতুর বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ছে না। গ্রীষ্মকাল ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। বর্ষাকাল তার সময় থেকে সরে যাচ্ছে। যখন বৃষ্টি হওয়ার কথা, তখন হচ্ছে না। আষাঢ় মাস বৃষ্টিহীন থাকলেও ভাদ্র-আশ্বিনে গিয়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শরৎ আসছে দেরি করে। শরতের আগের সেই বৈশিষ্ট্যের দেখা মিলছে না। শরৎ এলেও কাশফুল-শিউলি ফুল তেমন চোখে পড়ে না। হেমন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। বসন্তও হারিয়ে যাচ্ছে। আর শীতকালের ব্যাপ্তি কমে আসছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শিলাবৃষ্টির হার বাড়ছে। স্থানীয়রা বলেছে, একেকটি শিলাবৃষ্টি ক্রিকেট বলের মতো দেখতে। এতে করে যেখানে শিলাবৃষ্টি পড়ছে, সে জায়গাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।

আইনুন নিশাত বলেন, ষড়্ঋতুর দুটি ঋতু প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। একটি হলো হেমন্ত আরেকটি বসন্ত। আর শীতকালের সময় ও ব্যাপ্তি কমে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব পরিবর্তন আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্ত সীমান্ত গঙ্গা, কর্নালী-ঘাগড়া নদী অববাহিকায় বসবাসরত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া একটি প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরতে যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে সিইইইআর, ওয়াটার এইড ও সুশীলন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব আবদুস সামাদ। অন্যদের মধ্যে ওয়াটার এইডের কর্মসূচি ও পলিসি অ্যাডভোকেসি বিভাগের পরিচালক লিয়াকত আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি, নূরনগর, কৈখালি, রমজাননগর, পদ্মপুকুর ও গাবুরা এই ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শ্যামনগরে প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে নিরাপদ পানির অপ্রতুলতা। স্থানীয় জনসাধারণ এক বাক্যে বলেছে, তাদের প্রধান সমস্যা পানি। দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া। এরপর রয়েছে যথাক্রমে, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ঘূর্ণিঝড়। গবেষণায় বেশ কয়েকটি পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা। পুকুর খনন করা। পানিশোধন, সংরক্ষণে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

সভায় নৌসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আসছে। এটা যেমন ঠিক, তেমনই মনুষ্যসৃষ্ট অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়ি নির্মাণের নামে নদী, খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার সময় পানি এলে তখন তা নামতে পারে না। তখনই দেখা দেয় বন্যা। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুন্দরী গাছ কমে যাচ্ছে। মানুষের জীবিকায় পরিবর্তন আসছে। কপোতাক্ষ নদ মৃত হয়ে গেছে। দেশের আরো অনেক নদ-নদী এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নদী খাল দখল বন্ধ করতে হবে। তাঁর মতে, সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের শিকার হচ্ছে।


মন্তব্য