kalerkantho


সৈয়দপুরে দুই বোন ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ হাত গুটিয়ে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সৈয়দপুরে দুই বোন ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ হাত গুটিয়ে পুলিশ

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ইসলামবাগ গ্রামের সদ্য এসএসসি পাস করা এক ছাত্রী ও তার চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া বোন নিখোঁজ হওয়ার পর ১৫ দিন পার হয়েছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানায় জিডি করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে পারেনি।

দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে উল্টো সৈয়দপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলছেন, পরিবারই হয়তো দুই শিক্ষার্থীকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে।

এ ঘটনায় ওই দুই ছাত্রীর পরিবারে হতাশা নেমে এসেছে। দুই ছাত্রী বাড়ি থেকে নিখোঁজের পর তারা সব আত্মীয়ের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছে। তবে কোথাও সন্ধান মেলেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ছাত্রীর মধ্যে বড় বোন চলতি বছর এসএসসি পাস করে। এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী শাকিল ইসলাম বাবু নামের এক বখাটে তাকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত করত। কুপ্রস্তাব দিত। একপর্যায়ে উত্ত্যক্তের মাত্রা বেড়ে গেলে ওই ছাত্রী গত মে মাসে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। এ অবস্থায় তার পরিবার তাকে সৈয়দপুরে না রেখে রংপুরে রেখে কলেজে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এ কথা জানার পর শাকিল তার সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে গত ৯ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের বাসায় গিয়ে ওই ছাত্রী ও তার বড় ভাইকে নির্যাতন করে। পরে তাদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করায়। ভাইয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করে। আদালত তা এফআইআর হিসেবে গণ্য করতে সৈয়দপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই দিলীপ কুমারকে।

গত ৬ আগস্ট ওই ছাত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ করে। তাতে সে দাবি করেছে, দিলীপ কুমার মামলা তদন্ত করতে গিয়ে আসামিদের না ধরে বরং তাদের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

এ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট ওই ছাত্রী ও তার ছোট বোন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের বড় ভাই।

গতকাল এ বিষয়ে টেলিফোনে সৈয়দপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি জিডি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসামিপক্ষের মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। মামলায় সুবিধা নেওয়ার জন্য তারা দুই ছাত্রীকে লুকিয়ে রেখেছে কি না কে জানে? তাদের যে উদ্ধার করব সে বিষয়ে তার পরিবার থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটির মোবাইল নম্বর আমাদের দেওয়া হয়নি। ’

পরে এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বোন কারো সঙ্গে কথা বললে আমার নম্বর দিয়েই কথা বলত। তাকে কোনো ফোন কিনে দিইনি। আমার দুটো বোন নিখোঁজ। আমি তাদের ফেরত চাই। ’

কাউকে সন্দেহ করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যেদিন আমরা কোর্টে মামলা করি সেদিন আসামিপক্ষ বলছিল আমাদের গুম করে দেবে। তারা আমার বোনদের অপহরণ করেছে কি না বলতে পারব না। ’

মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসআই দিলীপ কুমার আসামিদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এসআই হুমকি দেবে কেন?’


মন্তব্য