kalerkantho


বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই হবে

ডিএমপির মাসিক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স আছে কি না তাও যাচাই-বাছাই করতে হবে।

ডিএমপির এই সভায় রোহিঙ্গাদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গারা ঢাকায় এসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে কি না তা নজরদারির পাশাপাশি তাদের সঙ্গে দালালচক্রের যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় এই সভায়।

এ ছাড়া সভায় আলোচনা হয়, রাজধানীতে যেসব পরিবহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হয়, সেসব পরিবহনের মালিকের বিরুদ্ধেও কঠোর হবে পুলিশ। সেই সঙ্গে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসব হাইড্রোলিক হর্ন বিক্রি হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজেও লাশের ময়নাতদন্ত শুরু করা নিয়ে আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সভায় উপস্থিত পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এর আগে রংপুরে জেলা প্রশাসকের সই জাল করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত অফিস সহকারী শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তদন্তে জানা যায়, এ ঘটনার সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার আরো অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। অনেক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও কেনাবেচা হয়েছে, যার বেশির ভাগের হদিস মিলছে না।

বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি সতর্ক আছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করে তার লাইসেন্স সঠিক কি না তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এর আগে ওই সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করবে। এরপর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেলে ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রংপুরে জেলা প্রশাসকের সই জাল করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় অফিস সহকারী শামসুল ইসলামকে দুই মাস আগে ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন রংপুর র‍্যাবের সদস্যরা। পরে তদন্তে জানা গেছে, এভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে প্রায় ৪০০ অত্যাধুনিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্স বাবদ অফিস সহকারী সামসুল ইসলাম কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা করে নিতেন।

পুলিশ ও র‍্যাব সূত্র জানিয়েছে, রংপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী শামসুল ইসলাম ও পিয়ন পান্নু মিয়ার নামে গত ১৮ মে মামলা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস। পরে শামসুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করে দুদক।  

গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দপ্তরে আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার।  

অনুষ্ঠানে ঈদুল আজহা ও শোকাবহ আগস্ট মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর রাখার জন্য ডিএমপির সব পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার।


মন্তব্য