kalerkantho


এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা

নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে পাঁচ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করার সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শুধু চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০১৭-১৮) এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করা হয়েছে। রুলে দ্বিতীয়বার অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে পাঁচ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দের করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গতকাল শুনানিতে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সরকার সারা বছর কিছু না বলে এখন ভর্তি পরীক্ষার সময় এসে বলছে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশ নেবে তাদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে পাঁচ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। হঠাৎ করে সরকারের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক।

এ ছাড়া একই পরীক্ষায় প্রথমবার অংশগ্রহণকারীদের নম্বর ঠিক রেখে শুধু দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারীদের নম্বর কাটা বৈষম্যমূলক।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যারা প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তারা এইচএসসি পরীক্ষার পর মাত্র কয়েক মাস পড়ালেখা করার সময় পায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারীরা প্রথমবার অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে অতিরিক্ত এক বছর বেশি পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটা তো প্রথমবার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বৈষম্য।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন। এর আগে আদালত বলেন, অনেক বছর ধরে চলে আসা একটি নিয়ম পাল্টাতে হলে সে জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা বঞ্চিত হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানানো হলে তারা (দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী) হয়তো সেভাবে প্রস্তুতি নিত।


মন্তব্য