kalerkantho


তাড়াইলে শিশু নির্যাতন

ইউপি চেয়ারম্যান শরিফের বিচার দাবি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শিশু নির্যাতনকারী রাউতি ইউনিয়নের সেই চেয়ারম্যান নূর শরীফ উদ্দিন জুয়েল ও তাঁর সহযোগীদের বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাউতি ইউনিয়নের পুরুড়া বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

পরে সেখান থেকে আট কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী লোকজন তাড়াইল উপজেলা সদরে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও থানার ওসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে।

রাউতি ইউনিয়ন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার কয়েক শ লোক অংশ নেয়।

স্মারকলিপিতে শিশু রাজীব (১৩) ও রাহিমের (১৫) ওপর নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। তা ছাড়া শিশু রাজিবের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাউতি ইউনিয়ন সুজনের সভাপতি আফজাল হোসেন আজম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাফায়েত হোসেন খান, রাউতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন তারেক, রাউতি ইউনিয়ন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক

তবিবুর রহমান চৌধুরী সোহেল ও মানবাধিকারকর্মী ছাদেকুর রহমান রতন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ আগস্ট উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের কারংকা গ্রামে এ দুই শিশু নির্যাতনের শিকার হয়। শিশু দুটির বাড়ি একই ইউনিয়নের হরিগাতি গ্রামে। তাদের বাবার নাম তারা মিয়া। রাহিম আগুনে দগ্ধ হয় আর রাজীবকে কথিত চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে নির্যাতন করে চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন।

এ দুই শিশুকে তাদের বাবা চেয়ারম্যান নূর শরীফ উদ্দিন জুয়েল ও তার পরিবারের মাছ ও মুরগির খামারে অভাবের তাড়নায় কাজ করতে দিয়েছিলেন।

রাউতি ইউপি চেয়ারম্যান নূর শরীফ উদ্দিন জুয়েল নিজে বাদী হয়ে ১৮

আগস্ট রাত সাড়ে ১২টায় নির্যাতনের শিকার রাজীবকে আসামি করে তাড়াইল থানায় একটি চুরির মামলা করেন। পুলিশ শিশুটিকে পরের দিন কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠালে আদালত শিশুটিকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি রাজীব ৫০০ টাকার বিনিময়ে তাঁর ঘরের আলমারির চাবি চোরদের দিয়ে দেয়। আর চোরেরা আলমারি থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং সাড়ে তিন লাখ টাকার স্বর্ণলংকার চুরি করে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর শিশু দুটির বাবা তারা মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান নূর শরীফ উদ্দিন জুয়েলকে প্রধান আসামি করি একটি মামলা করেছেন। আদালত তাড়াইল থানার ওসিকে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার স্মারকলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মিছিলকারীরা শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি স্মারকলিপি আমাকে দিয়েছে। ’

তাড়াইল থানার ওসি চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, ওই দুই শিশুর বাবা আদালতে একটি মামলা করেছেন। আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য থানায় এসেছে। পুলিশ এখন দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করবে।


মন্তব্য