kalerkantho


সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

চাল আমদানিতে কৃষককে সংকটে পড়তে হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চাল আমদানি হলেও কৃষককে কোনো ধরনের সংকটে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরো জানান, এই মুহূর্তে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হলেও আগামী দিনে উৎপাদনের পর তা পুনর্বহাল করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে এসংক্রান্ত নোটিশটি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন। নোটিশে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় চাল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত চাল আমদানি যাতে না করা হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ দেশের উৎপাদিত চালের সঠিক মূল্য যাতে কৃষক পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আপৎকালীন খাদ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ১৫ লাখ টন চাল ও পাঁচ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চালের সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে প্রথমে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। পরে ২ শতাংশ করা হয়।

শুধু হিসাব রাখতে এটা করা হয়েছে। তিনি জানান, এখন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও চাল আমদানি হচ্ছে।

আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সাময়িক সময়ের জন্য করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন হলে আবার ওই ট্যারিফ বহাল করা হবে। ’

বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশের খাদ্য সংকটের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে এবার আমরা চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য মজুদ করতে পারি নাই। তাই চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

বন্ধ বস্ত্রকলগুলো চালুর পরিকল্পনা : দেশের বন্ধ বস্ত্রকলগুলো পুনরায় চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য এম. আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ বস্ত্রকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে বা পিপিপির মাধ্যমে এসব বন্ধ বস্ত্রকল সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিটিএমসির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করবে সরকার : রেলমন্ত্রী

মেট্রো রেলের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করবে সরকার। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রাকশন (ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাবস্টেশন নির্মাণসহ) প্রবর্তনে একটি সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এ তথ্য জানান। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম।


মন্তব্য