kalerkantho


কক্সবাজারে বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারে বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দেওয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিএনপির ত্রাণবাহী ২২টি ট্রাক কক্সবাজারে প্রশাসনের বাধার মুখে উখিয়ায় যেতে পারেনি। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে শহীদ সরণি থেকে ট্রাকগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা আটকে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে সরকার উখিয়া যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এ ঘটনায় সরকারের ‘মুখোশ’ উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার যে বলছে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বাস্তবে তা শুধু আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ আসলে তারা রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়ায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, গতকাল কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতিনিধিদলকে সকালের পরিবর্তে দুপুর ২টায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের দেওয়া নির্ধারিত সময়ে আবার ট্রাক ছাড়ার আগে পুলিশ তাদের একটি পিকআপ ত্রাণভর্তি ট্রাকগুলোর সামনে রাখে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের পিকআপ রেখে ত্রাণের ট্রাকগুলো আটকে দিয়েছে। এর আগে সকাল থেকে দফায় দফায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি নেতারা। তবে বিকেল পর্যন্ত অনুমতি না পেয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা ত্রাণ দিতে এসেছি। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। রাজনীতি করতে আসিনি। আওয়ামী লীগের উচিত ছিল আমাদের স্বাগত জানানো। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো আমাদের ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তার পরও আমরা এসেছি। ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য একটি নিয়ম করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান-সংগঠন তাদের নিজস্ব ব্যানারে কোনো আর্থিক সাহায্য বা ত্রাণ বিতরণ করতে পারবে না। ত্রাণ দিতে চাইলে জেলা প্রশাসনের ‘দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখায়’ আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ত্রাণসামগ্রী জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই ত্রাণ রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তাই বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের আমরা ত্রাণসামগ্রী জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলেছি। ”

ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের ব্যানারে ত্রাণ বিতরণ নিষিদ্ধ হলেও মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিএনপি নেতারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদল ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তা আটকে দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ট্রাকগুলো ঘিরে রাখে ও ট্রাকের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়।

মির্জা আব্বাস ছাড়াও বিএনপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. জাহিদ হোসেন, মাহবুবুর রহমান শামীম, লুত্ফুর রহমান কাজল ও শাহজাহান চৌধুরী।

ত্রাণের ট্রাক আটকে দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনাসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহযোগিতা করতে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া আমাদের উচ্চপর্যায়ের টিমকে আটকে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজারে। ’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ধিক্কার দিই আপনাদের, ঘৃণা প্রকাশ করি, আপনারা ত্রাণের মতো মহৎ কাজ পর্যন্ত করতে দেন না। আমার প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে, সরকারের কাছে। আপনি যে গতকাল (মঙ্গলবার) উখিয়ায় গিয়ে ওই রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিলেন। পত্র-পত্রিকায় বিভিন্নভাবে লেখা হলো প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, কাঁদালেন। আজকে এই যে ২০-২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আমাদের নেতারা গেলেন, তাঁরা তো অন্তত চার-পাঁচ হাজার অসহায় ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গার মুখে এক বেলা খাবার তুলে দিতে পারতেন। তা থেকে তাঁদের আপনি বঞ্চিত করলেন। ’

ফখরুল বলেন, ‘মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেখেছি বেশির ভাগ রোহিঙ্গা অভুক্ত। একটামাত্র ভলান্টারি অর্গানাইজেশনকে দেখছি তারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। সরকার চিকিৎসাকেন্দ্র খুলেছে কি না আমি জানি না। উন্মুক্ত আকাশের নিচে তারা বৃষ্টিবাদলের মধ্যে দুস্থ-দুর্বল শিশুদের নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ’ অবিলম্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে যেতে যাওয়ার দাবি জানান তিনি।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ (বুধবার) সংসদে একটি প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে পার্লামেন্টকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো। আমরা এর ঘোরতর নিন্দা জানাচ্ছি। এভাবে বিচার বিভাগকে হেয়প্রতিপন্ন করে, প্রধান বিচারপতিকে হেয়প্রতিপন্ন করে, বিচারপতিদের হেয়প্রতিপন্ন করে আজকে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রাষ্ট্রকে তারা সত্যিকারভাবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চায় না। সে জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো ও এই স্তম্ভগুলোকে তারা ভেঙে দিচ্ছে। ’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে দলের নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবীর রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, কায়সার কামাল বক্তব্য দেন। এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ, মানবতাবিরোধী অপরাধী মিয়ানমারের পণ্য বর্জনের দাবি’তে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরের প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘সরকারপ্রধানের প্রতি আমাদের আহ্বান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। ’

ন্যাপ ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন।


মন্তব্য