kalerkantho


রংপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রংপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের মৃত আমিন নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোদেলা বেগমের রোপণকৃত আমনক্ষেত এবারের বন্যায় তলিয়ে যায়। প্রধান ফসল আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় আগামী দিনের খাদ্যের চিন্তায় দাৎশিহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে আমন ধানের চারা পেয়ে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। রোদেলা বেগমের মতো মিঠাপুরের রাসেল মিয়া, তসলিম মিয়াসহ অনেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে চারা পেয়ে জমিতে রোপণ করেছেন। আবার পীরগাছার কল্যাণী এলাকার বুলবুল মিয়ার মতো অনেকে বাজার থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করেছেন। কাউনিয়ার আফজাল মিয়াসহ অনেকে আগাম রবি ফসলে মনোযোগ দিয়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী বন্যায় রংপুর জেলায় এক হাজার ৩২০ হেক্টর জমির ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সরচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজির। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করছে কৃষকরা। এ ছাড়া আমন ধান ছাড়াও কৃষকরা আগাম রবি ফসল চাষাবাদে মনোযোগ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে গত মঙ্গলবার রংপুর অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রোপা আমনের চারা বিতরণ করা হয়।

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান  ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সরকারের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জিয়াউল হক।

রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুষিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য বর্তমান সরকার সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে কৃষকরা এক জমিতে বছরে একবার ফসল ফলাত, কিন্তু এখন তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করছে। এ ছাড়া তিনি জৈবিক পদ্ধতিতে ফসল চাষ করার জন্য উপস্থিত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক সরকার বলেন, এবারের বন্যায় রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা উত্তরণে ব্রি এরই মধ্যে এক হাজার ১০০ কেজি ব্রি-৩৪ ধানের বীজ দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে। ব্রি রংপুর কার্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রায় ২৫০ কেজি নাবী জাতের বিআর ২২, ব্রি-৩৪, ব্রি-৪৬সহ অন্যান্য স্বল্প জীবনকালের জাতের চারা এরই মধ্যে উৎপাদন করে বিতরণ করেছে; যা দিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। আমন ধান ঘরে না আসা পর্যন্ত ব্রি রংপুরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


মন্তব্য