kalerkantho


দুর্দশায় রোহিঙ্গারা, জন্মদিন উদ্‌যাপন করেননি রেহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুর্দশায় রোহিঙ্গারা, জন্মদিন উদ্‌যাপন করেননি রেহানা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে গতকাল বুধবার নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেননি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শেখ রেহানার জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তিনি কেকও কাটেননি। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মী হয়ে তিনি এ মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে রান্না করা খাবার পাঠানো হয়েছে এতিমখানায়।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, তাদের হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব চিত্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরবেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে সামনে এগোচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরকার সারা বিশ্বে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশও কথা বলবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বছর শেখ রেহানার ৬২ বছর পূর্ণ হলো।

তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন শেখ রেহানা। তখন রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের দুর্দশার কথা শুনে তিনি তাদের বুকে জড়িয়ে ধরেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী এক দল কর্মকর্তা বাংলাদেশের জাতির পিতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান তাঁরা। বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে সে সময় বেলজিয়ামে ছিলেন শেখ রেহানা। শেখ হাসিনার স্বামী এম ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল ছিল জার্মানির কার্লসরুইয়ে। সেখান থেকে পরে ভারতে চলে যান দুই বোন।

শেখ রেহানা পরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আর শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

লন্ডনপ্রবাসী হলেও শেখ রেহানা বছরের একটি বড় সময় দেশেই কাটান। তাঁর তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির এমপি। ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। আর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক লন্ডনে কন্ট্রোল রিস্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালিসিস সম্পাদক।


মন্তব্য