kalerkantho


মিরপুরে ম্যানহোলে নেমে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর মিরপুরে ম্যানহোলে ময়লা পরিষ্কার করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ৭ নম্বর চলন্তিকা মোড়ের ওই ম্যানহোল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

স্থানীয়রা বলছে, তারাও ওই যুবককে চেনে না। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সেখানকার জিতা গার্মেন্টের পানির লাইনে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করার জন্য ওই যুবককে নামানো হয়। নামার পর তিনি নিখোঁজ হন।

রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, ‘যুবকের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। আমরা, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন তাঁর ছবি প্রকাশ করেছি। ওই গার্মেন্টের পরিচালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, টাকার জন্য ওই যুবক ম্যানহোলে নেমেছিল। তাকে কেউ জোর করে নামায়নি।

তার পরও জিতা গার্মেন্টের লাইন পরিষ্কার করতে নেমে যেহেতু এমনটি হয়েছে সেহেতু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ’

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, জিতা গার্মেন্টের পুরো ময়লা ওই ড্রেনে পড়ে। গার্মেন্টের পানির লাইনও ওই ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত। লাইনে ময়লা আটকানোর কারণে তা জ্যাম হয়ে ড্রেনে পানি যাচ্ছিল না। ফলে পানি রাস্তাসহ আশপাশ এলাকায় গড়ায়। তাই গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত তাদের লাইনটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়। তারা ৫০০ টাকা দিয়ে ওই যুবককে ড্রেনে নামায়। যুবকটি তৃতীয়বার ডুব দেওয়ার পর আর ওঠেনি। পরে আশপাশের লোকজন ম্যানহোলের ভেতর উঁকি দিয়ে তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করে। অনেকে ভেতরে নেমেও খোঁজে। কিন্তু না পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

জিতা গার্মেন্টের পরিচালক জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনেছি আমাদের লোকজন তাকে ড্রেনে নামিয়েছে। তবে তাকে জোর করে নামায়নি। ওই যুবক স্বেচ্ছায় নেমেছে। ’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই যুবক ম্যানহোলে নিখোঁজ হওয়ার খবরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে রাত ১০টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ফের উদ্ধার অভিযান চালায়। স্থানীয়রা জানায়, ড্রেনের পানি যেদিকে প্রবহমান সেদিকে প্রায় ২২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে ফায়ার সার্ভিস; কিন্তু তাঁকে খুঁজে পায়নি। পরে এর প্রায় ৫০ ফুট উল্টো দিকে মরহেদের সন্ধান পায় সাধারণ লোকজন। তারা ফায়ার সার্ভিসকে উল্টো দিকে খোঁজার অনুরোধ জানায়; কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। পরে স্থানীয়রা উল্টো দিকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে আরেকটি ম্যানহোলের ঢাকনা তুলে নিচে নামে। ১৫-২০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় মরদেহের সন্ধান পায়।

মিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লা আল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে আমাদের ধারণাটা রং (ভুল) ছিল। আমরা ভেবেছিলাম পানির প্রবাহের দিকেই যুবককে পাওয়া যাবে। বাস্তবে তা-ই হয়। কিন্তু যুবকটি যখন ম্যানহোলে নেমেছে তখন হয়তো ড্রেনের ভেতরের উল্টো দিকে বাতাস ও পানির প্রবাহ কম ছিল। তাই সে উল্টো দিকে চলে যায়। ওখানেই অক্সিজেনের অভাবে ও বিষাক্ত গ্যাসে তার মৃত্যু হয়। ড্রেনটি সরু ছিল। ওই এলাকার সব ময়লা ওই ড্রেন দিয়ে ঝিলে নামে। সঙ্গে জিতা গার্মেন্টের ময়লাও। ময়লার কারণে এটি সরু হয়ে গেছে। ’


মন্তব্য