kalerkantho


অভয়নগরে কালোবাজারে সার বিক্রি ডিলারদের, ক্ষুব্ধ কৃষক

ফখরে আলম, যশোর   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দেশের অন্যতম সারের মোকাম যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বিসিআইসির ডিলাররা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে নির্ধারিত এলাকায় না পাঠিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য আমনের ভরা মৌসুমে কৃষকদের বেশি দামে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে।

কালোবাজারে সার বিক্রির কারণে মাঠপর্যায়ের সাব-ডিলাররা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ফলে ডিলারদের পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের নজরদারি না থাকায় বিসিআইসির ডিলাররা যা ইচ্ছা তা-ই করছেন। তারা জানায়, সম্প্রতি জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন চাষাবাদ করতে পারেনি তারা। এখন পানি কমতে শুরু করেছে। যে কারণে জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেছে। কিন্তু সারের অভাবে চাষাবাদ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। সাব-ডিলাররা জানান, ইউরিয়া সার উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাব-ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বিসিআইসির ডিলাররা তা না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

এর ফলে কৃষকদের বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।   

সরেজমিন খবর নিয়ে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ, সুন্দলী, চলিশিয়া, পায়রা, শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন এলাকার সাব-ডিলারদের ঘরে কোনো ইউরিয়া সার নেই। সাব-ডিলারদের কাছে অল্প কিছু সার থাকলেও দাম চাওয়া হচ্ছে এক বস্তা ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। কিন্তু ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ৮০০ টাকা। সার সংকটের কারণ সম্পর্কে সাব-ডিলাররা বলেন, ‘ডিলারদের কাছে ইউরিয়া সার চাইলে তারা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন ইউরিয়া সারের ঘাটতি রয়েছে। কোনো ইউরিয়া সার নেই। যে কারণে আমরা নিরুপায় হয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার কিনতে বাধ্য হচ্ছি। ’ তাঁরা আরো বলেন, ‘ইউরিয়া সার না থাকলে অন্য কোনো সার বিক্রি হয় না। কারণ কৃষকরা এক বস্তা ইউরিয়া সারের সঙ্গে আরো পাঁচ বস্তা অন্যান্য সার নেয়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে সার কিনে আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তেমনি কৃষকরা এত বেশি দামে সার কিনে ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ তো দূরের কথা আসলই ঘরে তুলতে পারবে না। ’

খবর নিয়ে জানা যায়, নওয়াপাড়া বাজারে ১৩ জন বিসিআইসি ডিলারের গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে অভয়নগরের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। অথচ সিন্ডিকেট তৈরি করে ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার প্রদত্ত ভর্তুকি মূল্যের থেকে বেশি দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন। এতে একদিকে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকির বিনিময়ে কৃষকের মধ্যে সার বিতরণ ব্যবস্থা ভেস্তে যাচ্ছে। কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী বলেন, ‘অভয়নগরে পর্যাপ্ত ইউরিয়া  সার মজুদ রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সার বিতরণ ও বিক্রি হচ্ছে। কালোবাজারে সার বিক্রির কথা আমার জানা নেই। ’


মন্তব্য