kalerkantho


বিদ্যুতের দাম নিয়ে গণশুনানি

প্রতি ইউনিট ৭২ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রতি ইউনিট ৭২ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৭২ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রস্তাব ছিল ইউনিটপ্রতি ৯৫ পয়সা বৃদ্ধির।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের অনুমতি থাকলে বহুল আলোচিত ব্যাটারিচালিত যানে বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘বিশেষ শ্রেণি’তে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া গণশুনানিতে পিডিবির প্রস্তাবের ওপর এসব সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি। গণশুনানিতে পিডিবির পক্ষে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ। শুনানিতে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদ উল হক ভুঁইয়া।

শুনানিতে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি ইউনিটে ৩ শতাংশ হারে লোকসান দিচ্ছে পিডিবি। এতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম সাড়ে ১২ শতাংশ  বৃদ্ধি বিবেচনায় সাড়ে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। ’

বিইআরসির কারিগরি কমিটির পক্ষে কামরুজ্জামান বলেন, ‘পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৫৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি আমরা।

’ কারিগরি টিমের প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করবে তাদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার দরকার নেই।

ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই বলে জানান। গণশুনানিতে তিনি বলেন, ‘যেসব হিসাবের ভিত্তিতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের অভিযোগগুলো গত সোমবারের শুনানিতে উত্থাপন করেছি। সেই বিতর্কগুলো এখনো শেষ হয়নি বা সে ব্যাপারে কোনো আদেশ দেয়নি কমিশন। পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ফয়সালা না হলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। ’

মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ : গত সোমবারের মতো গতকালও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির সময় কারওয়ান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদ করে এই বিক্ষোভ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা। বামপন্থী এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যত দিন গণশুনানি চলবে তত দিনই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

প্রসঙ্গত, পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৮৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। গত সোমবার এ প্রস্তাবের ওপর শুনানিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ইউনিটপ্রতি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫৭ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। গতকাল শুরু হয়েছে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি। আজ বুধবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হবে। আগামী ৪ অক্টোবর গণশুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে বিইআরসি এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সরকার মোট সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এ নিয়ে আটবারের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পাঁচবার বেড়েছে পাইকারি পর্যায়ে এবং ছয়বার খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে। তবে এবার দুই স্তরেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


মন্তব্য