kalerkantho


রাখাইনে কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের মন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে

‘সংখ্যা কয়েক লাখ হলেও ফিরিয়ে নেওয়া হবে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমার সরকারের আয়োজনে রাখাইনে সহিংসতা-বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশসহ মিয়ানমারের পাঁচ প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীরা। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এই পরিদর্শনের সময় তাঁদের উপস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে বলেছেন, যাচাইপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে এবং শরণার্থীরা সংখ্যায় কয়েক লাখ হলেও তাদের প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ সময় তিনি সীমান্তে বাংলাদেশে পলায়নের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

গত মঙ্গলবার সকালে এই সফরের আয়োজন করে মিয়ানমার সরকার। দেশটির প্রতিবেশী বাংলাদেশ ছাড়ও ভারত, থাইল্যান্ড, লাওস ও চীনের কূটনীতিক এবং ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, সিনহোয়া, সিসিটিভি, ফুজি, এনএইচকে, সিএএন, আরএফএ, মিয়ানমার টাইমস, ইরাবতী এমআইটিভি, এমআরটিভি, এনপিই, মিয়াবাদি ও ডিএমজির রিপোর্টারসহ ৪০ জন কূটনীতিক ও সাংবাদিক এ সফরে যান। সফরে মিয়ানমার সরকারের পক্ষে সফরে ছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এবং রাখাইন স্টেটসংক্রান্ত কফি আনান কমিশন সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উইন মিয়াত আইয়্যে, কেন্দ্রীয় অভিভাবসনমন্ত্রী উ থেইন সোয়ে, সীমান্তবিষয়ক উপমন্ত্রী মেজর জেনারেল থান তুতসহ অন্য কর্মকর্তারা। প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে বিমানে করে রাখাইনের সিতুয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টার ও গাড়িতে করে তাঁদের সহিংসতা-বিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকা দেখানো হয়। রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিকরা রাখাইনে আগুনে পোড়া ও বিধ্বস্ত বাড়িঘর সচক্ষে দেখেন।

এই সফরে টিন্ট সোয়ে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়া মুসলিমদের সংখ্যা যদি কয়েক লাখও হয় এবং তারা যদি প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারের বাসিন্দা হয়, তাহলে তাদের প্রত্যাবাসনে বদ্ধপরিকর মিয়ানমার সরকার। ’ তবে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি।

সোয়ে জোর দিয়ে বলেন, শরণার্থীরা আগে গ্রামে বসবাস করত, তাদের অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার এখন প্রয়োজন নেই। সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বলে তিনি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে দাবি করেন। এ সময় তিনি বলেন, ১৯৯২ সালের বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী এই প্রত্যাবাসন করা হবে। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন যে ১৯৯২ সালের চুক্তির বাস্তবতা ও কার্যকারিতা বর্তমানে নেই।

সফরের একপর্যায়ে কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের দলটিকে ইয়াদিদুয়াং পৌর এলাকার আনুয়াকপাইন গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বেশির ভাগ রোহিঙ্গা মুসলিমই বাংলাদেশে পালিয়ে যায়নি। তারা এখনো সেখানে শান্তিতে বসবাস করছে। এ সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, সরকার তাদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের দলটি সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের অদূরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পলায়নপর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করে। তারা সেখানে বাংলাদেশে পালানোর অপেক্ষায় থাকা ৭০০ রোহিঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে। কূটনীতিক ও সাংবাদিকরা রোহিঙ্গাদের মুখে শোনেন তাদের ওপর সহিংসতা চালানোর কথা। সেখানে রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টিন্ট সোয়েও। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন এবং দাবি করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের সঙ্গে এই সাক্ষাতে মন্ত্রী সোয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, শরণার্থীদের মধ্যে যারা ফিরে আসতে চায়, তাদের জন্য প্রত্যাবর্তন, সহায়তা প্রদান ও নিরাপত্তার আয়োজন চলছে। এ সময় বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সাইফুর রহমানও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে না যেতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন,  মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চলছে এবং বাংলাদেশে এ মুহূর্তে যারা গিয়ে অবস্থান করছে, তারা খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছে।

সফরের একপর্যায়ে কূটনীতিক ও সাংবাদিকরা মংডু পৌর এলাকার প্যান্টাপাইন গ্রামে যান। এ সময়ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ এবং যাচাই ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরুর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁরা এনকাগুয়া নামের একটি গ্রামও পরিদর্শন করেন, যেখানে রোহিঙ্গা মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধরা সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করছে। এ সময় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ‘হাতে’ একটি জাতিগত রাখাইন গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে দলটি। শেষ মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান সমাপ্ত করা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুল বুঝে আছে যে সেখানে এখনো অভিযান অব্যাহত আছে। সূত্র : মিয়ানমার তথ্য মন্ত্রণালয় ওয়েবপোর্টাল ও সিনহুয়া।


মন্তব্য