kalerkantho


উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষকদের মতবিনিময়

শুধু মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



শুধু মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ নয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ফেরাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকরা। মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রাক-মূল্যায়নেরও প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা এসব প্রস্তাব দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়্যারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৩ অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, নিয়মমাফিক ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি পদ্ধতির আধুনিকায়ন, তরুণ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, হল নির্মাণ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘নতুন জ্ঞান ও গবেষণাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণ। তরুণ শিক্ষকদের মধ্যে গবেষণার প্রবণতা নেই। নিয়মিত ক্লাস কিংবা পরীক্ষা নিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। এটা কোনোমতেই কাম্য না। একজন শিক্ষক জ্ঞান সৃষ্টিতে কাজ করবেন, গবেষণায় সময় ব্যয় করবেন; কিন্তু বড় অংশই সেটি না করে পদ-পদবির আশায় রাজনীতিতে যুক্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সৌন্দর্য বর্ধন, শিক্ষা ও গবেষণা বৃদ্ধির বিষয়ে মত এসেছে। গবেষণার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি ও অতীত গৌরব ফেরানোর কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ছিল না। এমনকি কোনো যৌক্তিক বিষয়েও মত প্রকাশ করতে পারেননি শিক্ষকরা। সেই বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে যথাযথভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় মত পাওয়া গেছে। শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডেমো-ক্লাস কিংবা মূল্যায়নেরও সুযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে দেখতে চাই সেই বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এতে শিক্ষা ও গবেষণা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত উন্নয়নের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক ভাতা, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে একাডেমিক এক্সিলেন্স বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে পাশাপাশি ডেমো-ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে মূল্যায়নের সুযোগ রাখার পরামর্শ এসেছে। ’


মন্তব্য