kalerkantho


কুতুপালংয়ে জর্দানের রানি

ন্যায়বিচারের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্বকে দাঁড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ন্যায়বিচারের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্বকে দাঁড়াতে হবে

জর্দানের রানি রানিয়া আবদুল্লাহ গতকাল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। ছবি : সংগৃহীত

জর্দানের রানি রানিয়া আল আবদুল্লাহ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে বলেছেন, মিয়ানমার বাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্ববাসীকে দাঁড়াতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইসিআর) পর্ষদ সদস্য ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাগুলোর একজন দূত হিসেবে রানি রানিয়া গতকাল সোমবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন, যাতে দুর্দশায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তার পরিমাণ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত মেডিক্যাল ক্লিনিক প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিং করেন রানি। তিনি বলেন, ‘শুধু মানবিক কারণে নয়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্ববাসীর দাঁড়ানোর উচিত। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিচালিত এই জাতিগত নিধন বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্যতম, বর্বরতম ঘটনা। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। ’

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন জর্দানের রানি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ।

জনবহুল এই দেশটি নিজেও অনেক সমস্যায় জর্জরিত। তবুও দেশটির সরকার এবং জনগণ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে এতগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে। ’

রোহিঙ্গাদের জন্য রানির পক্ষ থেকে যা যা সম্ভব তাই করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এত দিন রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কথা শুনে আসছিলাম। কিন্তু এখন নিজের চোখে দেখে গেলাম। এখানে ৯৫  শতাংশ রোহিঙ্গা মৌলিক চাহিদার সংকটে রয়েছে। মিয়ানমারে যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চলছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন। ’

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানে করে ঢাকা থেকে কুতুপালং শিবিরে এসে পৌঁছেন জর্দানের রানি। শিবিরে পৌঁছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনের একটি হেলথ সেন্টার পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি নিপীড়নের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের একটি স্কুল পরিদর্শন করেন এবং স্কুলের রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ

সময় কাটান। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য