kalerkantho


রিজার্ভ চুরি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সন্দেহভাজন বদলি হলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সন্দেহভাজন বদলি হলেন

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সিআইডির চোখে অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ রাহাত উদ্দিনকে প্রধান কার্যালয়ের আইটি অপারেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে সরিয়ে মতিঝিল কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক আদেশে এ বদলির বিষয়টি জানানো হয়।

তবে রাহাত উদ্দিনকে সিআইডির চলমান রিজার্ভ হ্যাকিংসংক্রান্ত তদন্তকাজে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে আদেশে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোটা নেটওয়ার্কের ইনচার্জ রাহাত উদ্দিন বদলি হওয়ার কয়েক দিন আগেই যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নেটওয়ার্কের পাসওয়ার্ডের তথ্য প্রধান কার্যালয়ের অন্য একটি বিভাগের (ইনফরমেশন সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট) কাছে হস্তান্তর করেন। এভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় রিজার্ভ চুরির তদন্তকাজ দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও কারো কারো আশঙ্কা রয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগ-১-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাঈদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত আদেশে রাহাত উদ্দিনকে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে মতিঝিল অফিসের সিনিয়র সিস্টেমস অ্যানালিস্ট নাসরিন সুলতানাকে আইটি অপারেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্ট বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন বদলি করা হলো—জানতে চাইলে রাহাত উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বদলির কারণটা আমার জানার বিষয় নয়। এটা আমার জানার এখতিয়ারের বাইরে। ’

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে একটি চক্র। এর ৪০ দিন পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যুগ্ম পরিচালক যোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত করছেন সিআইডির অ্যাডিশনাল এসপি রায়হান উদ্দিন খান। তদন্তে ২৫ সদস্যের একটি বিশেষ টিমও কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছেন কি না, তা বের করতে প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবদসহ কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। বিভিন্ন সময়ে সিআইডির সন্দেহভাজন তালিকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

সিআইডি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন অনেকেরই গাফিলতি আছে। ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত থাকতে পারে কেউ কেউ। ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো একত্রিত করে চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।


মন্তব্য