kalerkantho


সিংহ ও চিতাশাবকগুলো গাজীপুরে সাফারি পার্কে

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সিংহ ও চিতাশাবকগুলো গাজীপুরে সাফারি পার্কে

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সিংহ ও চিতাশাবক। ছবিটি গতকালের। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর উত্তরা থেকে যশোর শহরের চাঁচড়া। সেখান থেকে আবার গাজীপুর।

এরই মধ্যে দুই দফা গাড়িবদল আর পুলিশের তদন্তকাজের জন্য ওঠানো-নামানো। এই বয়সে উদ্ধার হওয়া দুটি সিংহ ও দুটি চিতাবাঘশাবকের ওপর অনেক ধকল গেছে। এর পরও একটি অন্যটির সঙ্গে দুরন্তপনায় মেতে রয়েছে। এ খেলা সাক্ষ্য দেয় পাচারকারীদলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় কতটা আনন্দিত ওরা!

সিংহ ও বাঘশাবকগুলোর এখন স্থায়ী বাস হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে পার্কে আনা হয় শাবকগুলোকে। সাফারি পার্কের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এই প্রজাতির সিংহ ও চিতা বাংলাদেশের কোথাও পাওয়া যায় না। পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ থেকে শাবকগুলো আনা হয়েছে।

সীমান্তপথে ভারতে পাচারের সময় যশোর শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে গত সোমবার সকালে সিংহ ও চিতাবাঘশাবকগুলো উদ্ধার করা হয়। শাবকগুলো একটি প্রাডো গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-২৭৯০) রাজধানীর উত্তরা থেকে যশোর নেওয়া হয়েছিল।

শাবকগুলো উদ্ধারের সময় কামরুজ্জামান ওরফে বাবু (৩০) ও রানা মিয়া (২৮) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ মো. বায়েজিদ জানান, কামরুজ্জামান ওরফে বাবু ও রানা মিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তরার ফায়েদাবাদ এলাকার জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ওই শাবকগুলো শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামের ইদ্রিস আলীর কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। তবে শাবকগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে তারা তা জানায়নি। এ বিষয়ে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যশোরের আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের প্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ গতকাল ভোরে এ সাফারি পার্কে সিংহ ও চিতাবাঘশাবকগুলো নিয়ে আসেন। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয় শাবকগুলো। পরে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা পার্কের প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন সেলে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় ওগুলোকে। এর মধ্যে আলাদা কক্ষের একটিতে দুটি সিংহ ও অন্যটিতে দুটি চিতাবাঘশাবক রাখা হয়।


মন্তব্য