kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেসকোর স্বীকৃতি লাভ

সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইউনেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাতীয় সংসদের তরফে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার ও বিরোধী দলের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

সরকার ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ ও রাজনীতির মহাকাব্য’ উল্লেখ করার পাশাপাশি দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন।

প্রস্তাবটি উত্থাপন করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ—আজ তা প্রমাণিত। ইউনেসকোর এ স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত প্রত্যাশিত। বঙ্গবন্ধুর অলিখিত ১৮ মিনিটের এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে জাতীয় মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল। এক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অন্যটি বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রথমটি বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বপ্ন অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তাঁরই কন্যা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধি ১৪৭ বিধির প্রস্তাবের (সাধারণ) ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের প্রতিটি পঙিক্ততে উঠে এসেছে বাঙালি জাতির ইতিহাস, শোষণ-বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে একটিমাত্র ভাষণে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু খলনায়করা ক্ষমতায় এসে বারবার বঙ্গবন্ধুকে ছোট করার চেষ্টা করেছে। ভয় হয়, ওই দানবের দল কোনো দিন যদি ক্ষমতায় আসে তবে আবারও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ঐতিহাসিক এই ভাষণ, বন্ধ করে দেবে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ। তাই ওই দানবের দলকে অবশ্যই পরাজিত করতে হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য চিরদিন এই ভাষণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অথচ কালজয়ী এ ভাষণটিকেই বিএনপি-জামায়াত একসময় বাজাতে দেয়নি।

ইউনেসকোর এ স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের নতুন করে পরিচিতি ঘটল উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে অনেক সময় লেগেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানছে, চিনছে। আর এ স্বীকৃতির মাধ্যমে অনেক দেশের পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমরা আশা করতে পারি। ’

সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিটি বাক্য নিয়ে একেকটি প্রবন্ধ লেখা যায়। ভাষণটির মাধ্যমে শেখ মুজিব সারা বিশ্বে রাজনীতির কবি হিসেবে পরিচিত পান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধী দলের কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাদুর বাঁশি বাজিয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে রেসকোর্সে ডেকে আনলেন। সেদিন তাঁর সিংহের মতো গর্জন পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দিল। সেদিনের ভাষণ শুনে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। এর পর থেকেই আমরা অস্ত্র সংগ্রহ শুরু করলাম। একইভাবে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর সবাই সশস্ত্র হয়েছিল। যুদ্ধের জন্য নতুন করে ঘোষণার অপেক্ষায় কেউ ছিল না।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণের পর আমরা বুঝে গিয়েছিলাম তরুণ ছাত্র হিসেবে আমাদের কী করণীয়। এখন অনেকে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা করেন। তাঁরা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চান। ’

জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সংগ্রামের ঘোষণার পাশাপাশি সুকৌশলে বক্তব্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিভ্রান্ত করেছিলেন। জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘এই ভাষণ আমার আমাকে তৈরি করেছে, আমার অস্তিত্ব সৃষ্টি করেছে, সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরনো বাঙালির পূর্ণ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এর পরও যারা তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও অস্তিত্বকে মানে না, তাদের ক্ষমা নেই। ’

বিএনএফের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ ৭ই মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর একটিমাত্র ভাষণে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, পৃথিবীর অনেক বড় বড় নেতার ভাষণ রয়েছে, কিন্তু তাঁদের কারো ভাষণ ইউনেসকো গ্রহণ করেনি, করেছে একটিমাত্র ভাষণ। সেটি হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। কারণ মাত্র ১৮ মিনিটের কালজয়ী ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।


মন্তব্য