kalerkantho


উদ্দেশ্য উচ্ছেদ করা

জয়পুরহাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জয়পুরহাট সদর উপজেলার চক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের সরকারি পুকুরপাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি পরিবারের বাড়িতে সোমবার রাত ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পুকুরপাড় থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনকে উচ্ছেদ করাই এ অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার কাশিনাথ সিং আটজনকে আসামি করে গতকাল মঙ্গলবার জয়পুরহাট থানায় মামলা করেছেন। আগুনে কাশিনাথের রান্নাঘর ও বাড়ির সীমানাপ্রাচীর পুড়ে গেছে।

এর আগে জমি নিয়ে মামলার জের ধরে গত বছরের ২৭ নভেম্বর জয়পুরহাট সদরের ঈশ্বরপুর গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নগেন চন্দ্র পাহানের বাড়িতে আগুন দেয় প্রতিপক্ষ। ওই ঘটনায় নগেন চন্দ্রের ছেলে গোবিন্দ চন্দ্র পাহান বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় মামলা করলে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনের ওপর হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তহীনতায় দিন কাটছে ওই দুই গ্রামসহ জেলার অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনের।

থানা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের সরকারি পুকুরপাড়ে কয়েক যুগ থেকে বাস করে আসছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৬ পরিবার। কিন্তু সরকারি এক একর ২২ শতকের ওই পুকুর নিলাম সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন পাশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের আবুল কাশেম। আবুল কাশেমের দুই ছেলে রোস্তম আলী ও মোশারফ হোসেন।

আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পর ওই পুকুর নিয়ে রোস্তম আলীর সঙ্গে বিবাদ চলে আসছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারগুলোর।

সোমবার রাত ৯টার দিকে কাশিনাথের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কাশিনাথের পরিবার ঘুমিয়ে ছিল। এ ঘটনায় রোস্তম ও মোশারফসহ আটজনকে আসামি করে কাশিনাথ বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

কাশিনাথ সিং অভিযোগ করেন, সরকারি খাস পুকুরের পাড় থেকে তাঁদের চিরতরে উচ্ছেদ করার জন্যই রোস্তম ও মোশারফ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাড়িতে আগুন দিয়েছেন।

আদিবাসীরা নিজেরা আগুন দিয়ে তাঁদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁরা কোনোভাবেই জড়িত নন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আদিবাসীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় মামলা হয়েছে। ’


মন্তব্য