kalerkantho


নার্সিং পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

চক্রের হোতা ২ নার্স ধরা বাকিদের খোঁজা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চক্রের হোতা ২ নার্স ধরা বাকিদের খোঁজা হচ্ছে

নার্সিং নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের হোতাদের শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্যতম হোতা প্রধান দুই নার্স নেতা আরিফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম ধরা পড়ার পর জানা যায়, প্রশ্ন ফাঁস চক্রে আরো সাত-আটজন জড়িত।

তাদের মধ্যে চারজনের নামের প্রথম অক্ষর যথাক্রমে কা, ফা, জা ও র। ধরা পড়া দুজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার)।

ডিবির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগের স্মৃতি চিরন্তনের পূর্ব পাশ থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নার্সিং নিয়োগ পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ১১ সেট প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাও করা হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি আরো বলেন, সাইফুল ও আরিফুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ব্যাপারে আরো তথ্য পাওয়া গেছে। আরো সাত-আটজন জড়িত। তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ডিবির সূত্র জানায়, সাইফুল বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শাখার নির্বাচিত ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরিফুল ইসলাম স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ আনিস গ্রুপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

সাইফুল জরুরি বিভাগে ও আরিফুল মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত। গোয়েন্দারা বলছেন, সাইফুল ইসলাম নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁসের প্রধান হোতা। বিএমএর এক শীর্ষ নেতার মাধ্যমে তদবির করে আটক দুজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অপচেষ্টাও করা হয় বলে জানায় সূত্র।

গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর ১০টি কেন্দ্রে মোট চার হাজার ৬০০ সিনিয়র স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি তিন হাজার ৬০০ ও মিডওয়াইফ এক হাজার) নিয়োগ পরীক্ষার বিপরীতে ১৬ হাজার ৯০০ জন নার্স অংশগ্রহণ করেন। শিউলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, কামিনী নামে চার সেটের প্রশ্নপত্র ছাপে পিএসসি। কিন্তু সব সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার আগে পাওয়া যায়।

একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার হলে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন নার্স নেতা প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নেমে প্রমাণ পেয়ে আরিফ ও সাইফুলকে আটক করে।


মন্তব্য