kalerkantho


মুক্তাগাছায় হিন্দু বাড়িতে আগুন

শিশুর কান্নায় রক্ষা পেল পুরো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শিশুর কান্নায় রক্ষা পেল পুরো পরিবার

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের শশা ইজারা গ্রামে গত শুক্রবার গভীর রাতে একটি হিন্দু বাড়ির একাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তবে ঘরের বেড়ার আগুনের তাপে তিন মাসের শিশু কেঁদে উঠলে রক্ষা পেয়েছে পুরো পরিবার।

ঘটনার পর থেকে পরিবারটি আতঙ্কে আছে।

শশা ইজারা গ্রামের বিশ্বনাথ ঘোষের বাড়িতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই সময় বাড়িটিতে ১৫-২০ জন সদস্য ছিল। বিশ্বনাথ জানান, কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা তাঁরা দেখেননি। তবে স্থানীয় শহীদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জমি নিয়ে তাঁদের বিরোধ চলছে। এই আগুনের সঙ্গে ওই বিরোধের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। ঘটনা জেনে মুক্তাগাছা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ব্যবসায়ীর দুটি পাটের গুদাম গতকাল শনিবার ভোরে আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তিন হাজার ৯০০ মণ পাট ও ৫০ বস্তা বাদাম পুড়ে ছাই হয়েছে।

ওই গুদামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় আগুনের ঘটনা নাশকতা বলেই সন্দেহ করছেন ব্যবসায়ীরা।

মুক্তাগাছার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তাঁদের ঘরে থাকা তিন মাসের নাতি কেঁদে ওঠে। কান্না শুনে তাঁরা উঠে দেখেন শিশুটির বিছানার পাশের টিনের বেড়ায় আগুন জ্বলছে। এরপর শিশুটিসহ তাঁরা পরিবারের সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাঁরা আগুন নেভান।

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রাও জানায়, জমি নিয়ে শহীদ মিয়ার সঙ্গে বিশ্বনাথ ঘোষের পরিবারের বিরোধ আছে। এর আগেও এই বাড়ির মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একাধিকবার প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু এই পরিবারটিকে হুমকিও দিয়েছেন শহীদ।

প্রতিবেশী নুরুন্নাহার বলেন, গভীর রাতে চিৎকার শুনে তিনি দৌড়ে বিশ্বনাথ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে আগুন লাগার ঘটনা দেখেন।

এলাকাবাসী মোশাররফ হোসেনও বলেন, বিশ্বনাথ ঘোষের সঙ্গে শহীদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে শহীদ মিয়া ওই বাড়িতে আগুন দিতে পারেন বলে তিনিও সন্দেহ করছেন। মোশাররফ আরো জানান, শহীদ মিয়া এর আগে স্থানীয় খামার বাজারে প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু পরিবারটিকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

মুক্তাগাছা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পি বলেন, শহীদ মিয়ার সঙ্গে বিশ্বনাথের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের হিসেবে শহীদ মিয়া বাড়িতে আগুন দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহীদ মিয়া বলেন, ‘বিশ্বনাথের সঙ্গে আমার জমিজমার কোনো বিরোধ নাই। কে বা কারা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে আমি তা জানি না। ’

মুক্তাগাছা থানার এসআই খায়রুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

তাড়াইলে পাটের গুদামে আগুন : তাড়াইল বাজারের নদীর ঘাটে অবস্থিত পাটের দুটি গুদামে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। এতে দুটি গুদামসহ সব মিলিয়ে তিন হাজার ৯০০ মণ পাট ও ৫০ বস্তা বাদাম পুড়ে গেছে।

একটি গুদামের মালিক নিরঞ্জন সরকার এবং অন্যটির মালিক পরেশ পাল। তাঁদের দাবি, আগুনে তাঁদের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা বলছেন, তাঁদের গুদামে একে তো বিদ্যুৎ নেই। এ ছাড়া আগুন লাগার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি শত্রুতামূলক বলে তাঁরা মনে করছেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন তাঁরা।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তারও জানিয়েছেন, পাটের গুদামে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে না। কাজেই বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া নদীর পাড়ঘেঁষা দুটি গুদামের একটি থেকে আরেকটির দূরত্বও বেশ খানিকটা পথ। তাই কিভাবে একই সঙ্গে দুটি গুদামে আগুন লাগল তা তদন্ত ছাড়া বলা মুশকিল।

ফয়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. দুলাল মিয়া বলেন, মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সন্দেহের কথা জানা যাচ্ছে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ওসি চৌধুরী মিজানুর রহমান বলেন, কিভাবে গুদামে আগুন লাগল তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তদন্তে রহস্য বের হয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।


মন্তব্য