kalerkantho


আশাশুনিতে আ. লীগ নেতাকে জবাই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আশাশুনিতে আ. লীগ নেতাকে জবাই

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আশাশুনিতে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে কৈখালি গ্রামে হাওড়া নদীর বেড়িবাঁধের ওপর এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম সলেমান গাজী (৪৫)। তিনি কালীগঞ্জ নলতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী গীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভূমিহীন আন্দোলনে সক্রিয় নেতা ছিলেন বলে স্বজনরা জানায়।

শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোনায়েম হোসেন জানান, রাতে সলেমান গাজী বাড়ির পাশে একটি দোকানে ক্যারম খেলছিলেন ভাগিনা আবু সালেক ও চাচাতো ভাই আবদুর রশীদের সঙ্গে। আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁর মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। এর পরই তিনি বাইরে চলে যান। পরে সকালে বেড়িবাঁধের ধারে তাঁর জবাই করা লাশ পাওয়া যায়।

ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, সলেমান গাজী ভূমিহীনদের একটি অংশের নেতৃত্ব দেন। তাঁর প্রতিপক্ষ ভূমিহীন নেতা ওহাব পেয়াদার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বজনরা জানায়, সলেমান গাজীর পিতা মৃত মোকছেদ গাজী। বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বসুখালি গ্রামে। ১৯৯৮ সালে কালীগঞ্জের বাবুরাবাদে ভূমিহীন আন্দোলনের সময় থেকে তিনি ঝায়ামারি গ্রামে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কয়েক বছর আগে দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর এলাকায় মনোরঞ্জন মুখার্জির কাছ থেকে ১০৭ বিঘা জমি কেনেন সলেমান, বসুখালির অমেদ আলী, আব্দুর রশীদ, ফারুক হোসেনসহ কয়েকজন। ঝায়ামারি বিলের এ জমি নিয়েই বিরোধ তৈরি হয় ওহাব আলী পেয়াদা নামের ব্যক্তির সঙ্গে।

স্ত্রী আয়েশা খাতুন বলেন, ‘দুই বছর আগে দেওয়ানি মামলায় ওহাব আলী পেয়াদা হেরে যান। তখন থেকে আমার স্বামীকে তিনি ভালোভাবে মেনে নিতে পারতেন না। তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় কয়েকবার। এ জমির কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ’

ঝায়ামারি গ্রামের আব্দুর রশীদ জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে সলেমানসহ কয়েকজন শোভনালী বাজারে সাহেব আলীর দোকানে ক্যারম খেলছিলেন। এ সময় মোবাইল ফোনে একটি কল আসায় তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন সলেমান। রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। গতকাল ভোরে কৈখালি পানির ট্যাংক থেকে ১০০ হাত দূরে পাওয়া যায় তাঁর জবাই করা লাশ।

আশাশুনি থানার ওসি শাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘সলেমান গাজীর লাশটি পড়ে ছিল আশাশুনি ও কালীগঞ্জ থানার সীমানায়। মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। পাশে সিগারেটের প্যাকেট ও একটি গ্যাসলাইটার ছিল। সলেমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ জানা যায়নি। তবে ভূমিহীনদের বিরোধের যে কথা শোনা যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’ গতকাল রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।


মন্তব্য