kalerkantho


কমছে সবজির দাম, পেঁয়াজ আবার লাগামছাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০




কমছে সবজির দাম, পেঁয়াজ আবার লাগামছাড়া

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ যতই বাড়ছে ততই কমছে দাম। বেশির ভাগ সবজির দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।

তবে দু-একটি সবজির দাম এখনো চড়া।

একইভাবে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে মাছের দামও। সে ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের বাজারে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে ক্রেতারা।

তবে কমতে থাকা পেঁয়াজের দর আবার হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করায় এই নিত্যপণ্যটিতে কষ্ট পিছু ছাড়ছে না ক্রেতাদের।

রাজধানীর কলাবাগান, শংকর, হাতিরপুল, সেগুনবাগিচা, পূর্ব রাজাবাজার, কারওয়ান বাজার, বাড্ডার গুদারাঘাটসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন সবচেয়ে কমে এসেছে ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম। বেশির ভাগ বাজারেই এই সবজিগুলো মিলছে প্রতি পিস ২০-২৫ টাকায়। তবে দু-একটি জায়গায় ৩০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন শিম এসেছে। এতে দামও কমতে শুরু করেছে।

কিছুদিন আগে কেজি ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে শিম বিক্রি হলেও এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। দু-তিন দিনের মধ্যে দাম আরো কমবে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।

কলাবাগানে বাজার করতে আসা এক ছাত্র মমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু কিছু সবজি এখন একটু কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো অনেক সবজির দাম ৫০ টাকা বা তার বেশি। তার পরও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলব এই কারণে যে কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন ধরনের প্রতি কেজি সবজি কিনতে গুনতে হতো ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ’

সেগুনবাগিচায় শামসুন নাহার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই তো শিম কিনেছি ১২০ টাকায়। এখন সেটা ৫০-৫৫ টাকায় পাচ্ছি। ’

এ ছাড়া বেগুন ৫০-৫৫ টাকা, মুলা ৩৫-৪০ টাকা, পেঁপে ও আলু ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৪৫-৫৫ টাকা, নতুন আলু ১০০ থেকে কমে ৭০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৫০-৫৫ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০-৫০ টাকা এবং বিভিন্ন রকমের শাকের আঁটি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।  

কারওয়ান বাজারের সবজির পাইকারি বিক্রেতা মাসুদুর রহমান জানান, নতুন সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। এখন সরবরাহ বাড়তেই থাকবে, দামও কমতে থাকবে। এক সপ্তাহের মধ্যে দাম আরো কমবে।

সবজির দাম পড়তির দিকে থাকলেও হঠাৎ করে উল্টো আচরণ শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। তিন-চার দিনের ব্যবধানে হঠাৎ করেই এই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এখন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, দেশি পেঁয়াজের সংকট আছে। ভারতীয় পেঁয়াজের হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি কমেছে। এ জন্যই একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে পেঁয়াজের।

এদিকে সবজির বাজারের মতো মাছের দামও বেশ কমেছে। ইলিশের সরবরাহ কমলেও সারা দেশ থেকে ঢাকায় প্রচুর পরিমাণ অন্যান্য মাছ আসতে শুরু করেছে। এ কারণে মাছের দামও একটু কমেছে বলে জানাল বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের টেংরা ও ছোট মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে। ছোট আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে, মাঝারি আকারের রুই ১৮০-২২০ টাকা কেজি এবং বড় আকারের রুই ২৫০-২৬০ টাকা কেজিতে। তা ছাড়া প্রতি কেজি পোয়া মাছ ১২০-১৪০ টাকা, সরপুঁটি ১৩০-১৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০-১২০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা আরিফ মিয়া জানান, বাজারে প্রচুর ছোট মাছ আসতে শুরু করেছে। এগুলোর বেশির ভাগই নদীর। সব মিলিয়ে সরবরাহ বেড়েছে। এই কারণে বিভিন্ন মাছের দাম কমেছে।

এ ছাড়া বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি, মাঝারি সাইজের দেশি মুরগি ১৫০-২২০ টাকা, গরুর গোশত ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে চালের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই স্থির অবস্থায় রয়েছে। যদিও এখনো তা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আসেনি। আমনের নতুন চাল বাজারে এলে চালের দাম আরো কিছুটা কমবে বলে আশা করছে অনেকে।

সেগুনবাগিচার চালের পাইকারি দোকানি মজনু মিয়া বলেন, ‘নতুন ধান মিলগুলোতে ঢুকেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন চাল বাজারে আসবে। ’

জানা গেছে, ভারত থেকে আমদানি করা বিআর-২৮ চালের দাম আরো এক দফা কমেছে। এ চাল এখন বিভিন্ন খুচরা বাজারে ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য চালের দাম সপ্তাহখানেক ধরে একই অবস্থায় রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, সব ধরনের চালের দামই গত এক সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন ধরনের চিকন ও মোটা চালের দাম কেজিতে এক টাকা করে কমেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিকন চালের দাম এখনো ১৮.৬৩ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ১২ শতাংশ বেশি।


মন্তব্য