kalerkantho


গাইড বই থেকে এইচএসসির প্রশ্ন

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শিক্ষক ফেঁসে যাচ্ছেন

শরীফুল আলম সুমন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শিক্ষক ফেঁসে যাচ্ছেন

গাইড বই থেকে চলতি বছরের এইচএসসির প্রশ্ন করায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচজন শিক্ষক ফেঁসে যাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জাকিয়া খানম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পাঁচ শিক্ষকের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের একটি বিষয়ে সরাসরি গাইড বই থেকে প্রশ্ন করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রও গাইড বই থেকে প্রণয়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত শেষে উভয় বোর্ডের প্রশ্ন প্রণয়নে পাঁচ শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন ঝিনাইদহের সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমান, যশোরের সরকারি এমএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস এম তালেবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সাহা, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মজন চৌধুরী এবং নাটোরের এনএস সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম।

বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় এই পাঁচ শিক্ষকের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গাইড থেকে প্রশ্ন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য অভিযুক্তের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, কর্মস্থল, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বেতন স্কেল, আহরিত বেতন-ভাতা উল্লেখপূর্বক খসড়া অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীসহ ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জানা যায়, রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র বিষয়ের বহুনির্বাচনী অংশে ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর প্রশ্ন ও উদ্দীপকে হুবহু গাইড বই থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

তবে যাঁদের বিরুদ্ধে গাইড বই থেকে প্রশ্ন করার অভিযোগ করা হয়েছে তাঁরা বলছেন ভিন্ন কথা। কারণ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এই শিক্ষকরা মূলত মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়ে তাঁরা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেছেন। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি গাইড বই থেকে প্রশ্ন করে থাকেন তাহলে তাঁদের পক্ষে তা যাচাই করা সম্ভব নয়। যাঁরা প্রশ্ন করেছেন তাঁদের যদি না ধরে মডারেটরদেরই অভিযুক্ত করা হয় তাহলে গাইড বই থেকে প্রশ্ন করা থামবে না বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।

এসব বিষয়ে নাটোরের এনএস সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মডারেশন বোর্ডে ছিলাম। আমরা কিন্তু প্রশ্নকর্তা নই। যদি প্রশ্নে শব্দচয়নগত ভুল থাকে সেটা আমাদের দেখা উচিত ছিল; কিন্তু গাইড থেকে যদি প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে থাকেন সেটা আমাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। ’


মন্তব্য