kalerkantho


গৌরনদীতে দুই মেম্বার সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

আহত ১০, বাজারে দোকানপাট ভাঙচুর

বরিশাল অফিস   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই মেম্বারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে দফায় দফায় হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা লিটন সরদার এবং আরেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ সুলভের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মামুন মীর ও বনি আমীন সরদার নামের দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া শামীম আকন নামের একজনকে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দোকান ভাঙচুর ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চাঁদশী বাজারের ব্যবসায়ীরা গতকাল রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে বিক্ষোভ মিছিল করে। খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানার এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচারের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা লিটন সরদার এবং আরেক যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সৈয়দ সুলভের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাঠৈ গ্রামের সৈয়দ সুলভের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সমর্থক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিতভাবে চাঁদশী বাজারে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষ লিটন সরদারকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। লিটনকে না পেয়ে তাঁর বড় ভাই বনি আমীন সরদারের হার্ডওয়্যার দোকান ভাঙচুর ও তাঁকে মারধর করে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা ও লিটন সরদারের স্বজনরা পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গিয়াস উদ্দিন কাজীর হোটেল ও বেপারী ফার্মেসি ভাঙচুর করা হয়।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দোকান ভাঙচুর ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চাঁদশী বাজারের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। দুপুরের দিকে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য