kalerkantho


বিনা মূল্যের বইয়ের সঙ্গে খাতা হোক সরকারের আরেক মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিগত ৯ বছরে সরকারের অর্জনগুলোর অন্যতম একটি হলো বিনা মূল্যে বই বিতরণ। সারা বিশ্বে এটি একটি নজিরও। যত প্রতিকূল অবস্থাই আসুক না কেন, সরকার যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়। আজ সোমবার বই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রায় ৩৫ কোটি বই। আর বিনা মূল্যের বইয়ের সঙ্গে যদি খাতা যোগ হয় তাহলে তা হবে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের আরেকটি মাইলফলক।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, সরকার প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় করে প্রস্তুত করেছে ‘আমার বই’ ও লেখার জন্য ‘অনুশীলন খাতা’। এই খাতা বিতরণের ফলে প্রাক-প্রাথমিকে দরিদ্র পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীর হার সন্তোষজনক হারে বেড়েছে। কিন্তু পরের শ্রেণিগুলোতে শুধুই বই, বিনা মূল্যে খাতা মিলছে না। এ অবস্থায় দরিদ্র অনেক অভিভাবক খাতাসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় সন্তানের পড়ালেখা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরেও যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রাক-প্রাথমিক পরবর্তী পর্যায়ে বিনা মূল্যে খাতা দেওয়ার ব্যবস্থা হলে বড় ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে সরকারের বিনা মূল্যে বই বিতরণের উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও বলেছেন, ‘বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের ফলে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা স্কুলমুখী হয়েছে। গত কয়েক বছরে স্কুলে যাওয়ার এই সূচক ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।’

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের আরেকটি বড় অর্জন শতভাগ শিশুকে স্কুলে আনা। কিন্তু প্রাথমিকে ভর্তির হার শতভাগ হলেও পঞ্চম শ্রেণি শেষ করার আগেই ঝরে যায় প্রায় ২০ শতাংশ। এরপর মাধ্যমিক শেষ হওয়ার আগে আরো প্রায় ৩৮ শতাংশ ঝরে যায়। এই ঝরে পড়ার হার কমানোর উপায় খুঁজছে সরকার।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, মূলত দারিদ্র্যের কারণেই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে। শিশুরা বিনা মূল্যে বই ও বিনা বেতনে স্কুলে পড়তে পারলেও তাদের অভিভাবকরা শিক্ষার অন্যান্য ব্যয় মেটাতে পারে না। এ জন্য শিক্ষায় আরো বিনিয়োগ দরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছে, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খাতা দেওয়ার মাধ্যমে সেই বিনিয়োগের প্রথম ধাপের কাজ শুরু করা যেতে পারে।

তবে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও, যারা বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রসারে কাজ করছে, তারা পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খাতা, পেন্সিলসহ নানা শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করছে। ফলে এসব এনজিও স্কুলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সংখ্যাও নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, সরকারের নানা অর্জনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিনা মূল্যে খাতা বিতরণ করা গেলে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের পরের স্তরগুলোতেও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে হলেও নতুন বইয়ের সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, গণিতের মতো মূল বিষয়গুলোর সঙ্গে তিন-চারটি খাতা বিতরণ করলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়বে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ নানা দেশে অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা উপকরণও বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। সরকারের পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষা বাজেটে এ বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে। অন্তত শিক্ষা উপকরণ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা বিতরণ করা যেতে পারে। এর আর্থিক মূল্য অপেক্ষা সরকারের সামগ্রিক অর্জন হবে অনেক বেশি।’

জানা যায়, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকারের গত ৯ বছরে ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি বই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের মধ্য দিয়ে চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে তুলে দেওয়া হবে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই।

২০১৫ সালের মে মাসে কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে ১৪০টি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা বিনা মূল্যে বই বিতরণের খবর শুনে বেশ খানিকটা অবাক হন। আর এই মহৎ যজ্ঞের প্রশংসা করে অনেকেই বলেন, এই ৩৫ কোটি বই যদি একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া দেওয়া যায় তাহলে হয়তো পুরো পৃথিবীই প্রদক্ষিণ করা যাবে। এবার এর সঙ্গে খাতা যোগ হলে তা হবে সরকারের জন্য আরেকটি মাইলফলক।


মন্তব্য