kalerkantho


বিবিসির প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা নিপীড়ন কল্পনাতীত ভয়ংকর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামে হামলা চালানোর সময় পাশের জঙ্গলে লুকিয়েছিলেন রোহিঙ্গা নারী শওকত আরা। সেখান থেকেই তিনি মিয়ানমার বাহিনীর জ্বালানো আগুনে পুরো গ্রাম পুড়ে যেতে দেখেছেন। তাঁর জন্য এর চেয়েও ভয়ংকর ছিল রোহিঙ্গা যুবকদের এক এক করে গলা কেটে হত্যার দৃশ্য দেখা।

স্কটিশ ফটোগ্রাফার সাইমন মারফি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে শওকত আরার মতো আরো অনেক রোহিঙ্গার মুখে রাখাইন রাজ্যে নিধন-নিপীড়নের বর্ণনা শুনেছেন। এ নিয়ে বিবিসির গ্লাসগো ও ওয়েস্ট সংস্করণের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—রোহিঙ্গাদের গল্পগুলো কল্পনার চেয়েও ভয়ংকর। সাইমন মারফি এর আগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সরেজমিন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

রোহিঙ্গা নারী শওকত আরা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ক্ষুধায় তাঁর ছেলে ও মা-বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী কিশোরদের প্রথমে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দৌড়ানোর নির্দেশ দেয়। ওরা দৌড়ানো শুরু করলে সেনারা পেছন থেকে তাদের তাড়া করে খাদে ফেলে। এরপর তাদের টুকুরো টুকরো করে হত্যা করে সেনারা। শওকত আরা জানান, নির্মম হত্যার শিকার ওই সব কিশোরের বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। সামরিক বাহিনী আসলে তাদের নিয়ে খেলেছে। সবশেষে ওদের পেছন থেকে ধরে গলা কেটে হত্যা করেছে।

সাইমন মারফি বিবিসিকে বলেন, তিনি এমন একটি শিশুর ছবি তুলেছেন যার মা-বাবাকে মিয়ানমার বাহিনী মেরে ফেলেছে। কিভাবে গ্রামে আগুন দেওয়া হয়েছে, শিশুদের কিভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে অন্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাবাসন চুক্তির পর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। ওদিকে এখনো রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে সহায়তা দেওয়া স্কটিশ ক্যাথলিক ইন্টারন্যাশনাল এইড ফান্ডের পরিচালক অ্যালিস্টার ডুটন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অকল্পনীয় বর্বর অপরাধের শিকার হয়েছে। অনেকেই পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের ছুরি দিয়ে জবাই, গুলি বা জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রোহিঙ্গাদের যা ছিল তার প্রায় সবই চুরি বা ধ্বংস হয়ে গেছে।’


মন্তব্য