kalerkantho


পূর্বাঞ্চল রেল

খালাসি পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ৮৬৫ খালাসি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রকল্পে নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় তাঁরা রেলে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়ক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের প্রক্রিয়া ঢাকার এক বাসায় চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নিরাপদ ট্রেন চলাচল মনিটরিংয়ের কাজ উপেক্ষা করে পূর্ব রেলের জিএম নিয়োগ কমিটিতে যাঁরা আছেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য বাস্তবায়নের কাজে লিপ্ত করানো হয়েছে। মন্ত্রীর বাসায় নিয়ে যদি লোক নিয়োগের কথা হয়, তাহলে সেই মন্ত্রী দিয়ে কিভাবে মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলবে এবং এই মন্ত্রী দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন হবে তা মনে করার কোনো কারণ নেই।’

মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘নিয়োগে মেধার কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না। টাকার মূল্যায়ন হচ্ছে। রাতের আঁধারে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে। পোষ্য-মুক্তিযোদ্ধা কোনো কোটাই মানা হচ্ছে না। এই নিয়োগ আমরা মানি না। কোনো  রেল কর্মচারী সন্তানের পোষ্য কোটার চাকরির জন্য মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের অফিস থেকে বের করে দেন—এটা হতে পারে না। অথচ ওই কর্মচারীরা সারাজীবন রেলের সেবা করেছেন।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘শুধু এই পদে নিয়োগ নয়, আমরা রেলে নিয়োগ, বিভিন্ন প্রকল্পসহ সব ধরনের নিয়োগের তদন্ত দাবির পাশাপাশি রেলমন্ত্রী ও রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সব কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগিতা চাচ্ছি।’

মোখলেছুর রহমান আরো বলেন, ২০১৫ সালে চতুর্থ শ্রেণির খালাসি পদে নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পদে ৮৬৫ জনকে নিয়োগের কথা রয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে প্রায় তিন বছর পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। এর পরও মন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা না নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করতে সময়ক্ষেপণ করছেন। 

পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, রেলে লোকবল নিয়োগে গঠিত নিয়োগ কমিটি সংশ্লিষ্ট মহাব্যবস্থাপকের অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করার নিয়ম। কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে থাকে। অথচ এই নিয়োগ কার্যক্রম চট্টগ্রামেই হওয়ার কথা। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ট্রেড অ্যাপ্রেন্ট্রিস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের এক বছর পর পরীক্ষা বাতিল হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যদি তখন ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে সদ্য সমাপ্ত অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট ও মেটারিয়াল চেকার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হতো না।

সংবাদ সম্মেলনে ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সার্কুলার লাইন প্রকল্প চালুর তিন মাস পর বাতিল করা, ওই প্রকল্পে নির্মিত স্টেশন ভেঙে ফেলা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চট্টগ্রাম স্টেশনে গৃহীত ম্যাক্স প্রকল্প অনুপযোগী এবং দুর্বল চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রেলের জমি বরাদ্দ দেওয়াসহ বিপুল আর্থিক ক্ষতিরও অভিযোগ করা হয়।


মন্তব্য