kalerkantho


সুজনের দৃষ্টিতে রংপুর নির্বাচন

সাত মণ ঘি জুটেছে তাই রাধা নেচেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ‘রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধা নেচেছে।’ তবে এটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস নয়। এ নির্বাচন দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, যোগ্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল সুজনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন : বিজয়ীদের তথ্য উপস্থাপন ও নির্বাচন মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন। এতে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সহসম্পাদক জাকির হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. হামিদা হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অতীতে বিতর্কিত ছিল। রংপুর সিটি নির্বাচনের পর কিছুটা হলেও বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে আমি মনে করি। সার্বিক বিচারে রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’

সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধা নেচেছে। সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। গণমাধ্যম সজাগ ছিল। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরাও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এর ফলে রংপুরে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘রংপুর সিটি নির্বাচন একটি ছোট জায়গায় হয়েছে। আমরা সবাই এ নির্বাচনকে যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি তা আদৌ জরুরি কি না? ৩০০ আসনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এক দিনেই এবং যেখানে সরকারও পরিবর্তন হবে। তাই আমি মনে করি, এটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস নয়। এ নির্বাচন দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, যোগ্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কতটা দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে পারে তাই হবে দেখার বিষয়।’

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটির নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা, আয়, সম্পদ ও দায়দেনা সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। জানানো হয়, নবনির্বাচিত মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল; যা থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। নবনির্বাচিত ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনের (৪২.৪২%) বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অতীতে ছিল পাঁচজনের (১৫.১৫%) বিরুদ্ধে। মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমানের পেশা ব্যবসা। নবনির্বাচিত ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪ জনই (৭২.৭২%) ব্যবসায়ী। নবনির্বাচিত ১১ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে আটজনই (৭২.৭২%) গৃহিণী। এ ছাড়া মো. মোস্তাফিজার রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১৭,১৫,০০০.০০ টাকা। নবনির্বাচিত ৪৫ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৮১.৮১ শতাংশের (২৭ জন) স্বল্প সম্পদ অর্থাৎ পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যমানের সম্পদের মালিক। নবনির্বাচিত ১১ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জনের (৯০.০৯%) সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার কম। মেয়রের জনতা ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১৫ লাখ টাকা। নবনির্বাচিত ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ঋণগ্রহীতা মাত্র সাতজন (২১.২১%)। নবনির্বাচিত ১১ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে কোনো ঋণগ্রহীতা নেই। এ ছাড়া মেয়র একজন করদাতা। তিনি সর্বশেষ অর্থবছরে ২৫,২৯৫.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন। ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪ জন (৭২.৭২%) করদাতা। ১১ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে পাঁচজন (৪৫.৪৫%) করদাতা। মেয়রের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৩ জনের (৩৯.৩৯%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে, সাতজনের (২১.২১%) এসএসসি এবং পাঁচজনের (১৫.১৫%) এইচএসসি, সাতজনের (২১.২১%) স্নাতক এবং একজনের (৩.০৩%) স্নাতকোত্তর। ১১ জন সংরক্ষিত (নারী) আসনের কাউন্সিলরের মধ্যে ছয়জনের (৫৪.৫৪%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে, দুজনের (১৮.১৮%) এসএসসি এবং একজনের (৯.০৯%) এইচএসসি, একজনের (৯.০৯%) স্নাতকোত্তর।


মন্তব্য