kalerkantho


আইসিটি, বিজ্ঞান ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা

এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৭১৪৬ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), বিজ্ঞান এবং অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা ও বিভাগের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত এমপিওবিহীন সাত হাজার ১৪৬ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুসরাত জাবীন বানুর গত রবিবার সই করা এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার চিঠিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, মাধ্যমিক স্তরের সব শ্রেণিতে আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হলে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তাঁদের এত দিন এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর এক পরিপত্রের মাধ্যমেও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক এবং বিজ্ঞানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয়। অথচ তাঁরা বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে কয়েক বছর ধরে পাঠদান করে আসছেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত, কিন্তু তাঁরা নন। এসব শিক্ষককেই এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের এক হাজার ৬৫৬ জন সহকারী শিক্ষক, বিজ্ঞানের ২৬৫ জন সহকারী শিক্ষক এবং অতিরিক্ত শাখার দুই হাজার ২৯২ জন সহকারী শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হবে। স্কুল থেকে এমপিওভুক্ত হবেন

মোট চার হাজার ২১৩ জন।

আর কলেজ থেকে আইসিটি বিষয়ের ২৪২ জন প্রভাষক, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ের ৬১০ জন প্রভাষক, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা বিষয়ের ২০৩ জন প্রভাষক, বিজ্ঞানের ৫০৩ জন প্রভাষক এবং অন্যান্য বিষয়ের আরো এক হাজার ৩৭৫ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হবে। কলেজ থেকে মোট দুই হাজার ৯৩৩ জন এমপিওভুক্ত হবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশি অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাত হাজার ১৪৬ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। তবে শিক্ষকরা আগের কোনো বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন না। শিক্ষকদের অনলাইনের মাধ্যমে দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের আওতায় এমপিওভুক্তির আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অকার্যকর হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইসিটি ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার শিক্ষকরা এমপিও না পাওয়ায় কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন। তাঁদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ। তবে আমরা চাই অবিলম্বে সকল প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হোক। এ জন্য আমরা কর্মসূচিও ঘোষণা করেছি।’

জানা যায়, আইসিটি, বিজ্ঞান ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার শিক্ষকরা গত কয়েক বছর ধরে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত নভেম্বরে মাউশি অধিদপ্তরের কাছে শিক্ষকদের তালিকা চায় মন্ত্রণালয়। সেই তালিকার ভিত্তিতেই এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য