kalerkantho


হাতিরঝিল থানার জন্য বাড়ি খোঁজা হচ্ছে

ডিএমপির ৫০তম এই থানার জন্য লোকবল ও যানবাহন বরাদ্দ হয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন এলাকা হাতিরঝিলকেন্দ্রিক নবগঠিত থানার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও যানবাহন বরাদ্দ হয়ে গেছে। হাতিরঝিল থানার ঠিকানা হিসেবে এখন যুতসই একটি বাড়ি খোঁজা হচ্ছে। বাড়ি পেয়ে গেলেই শুরু হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০তম এই থানার কার্যক্রম।

পুলিশ সূত্র জানায়, হাতিরঝিল এলাকাটি বাড্ডা, গুলশান, রমনা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও রামপুরা থানার মধ্যে পড়েছে। ফলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই এলাকাসংক্রান্ত ঝামেলার সৃষ্টি হয়। ফলে হাতিরঝিলকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন থানার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

হাতিরঝিল থানায় দায়িত্ব পালনের জন্য এরই মধ্যে ৭১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), দুজন ইন্সপেক্টর, ১২ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ২০ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও ৩৪ জন কনস্টেবল। এ ছাড়া বাবুর্চি ও সুইপারের পদ রয়েছে একটি করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে। তাতে হাতিরঝিল থানার জন্য ৭১টি পদ সৃজন ও ১০টি যানবাহন মঞ্জুরের কথা বলা হয়েছে। যানবাহনের মধ্যে রয়েছে দুটি পিকআপ ও আটটি মোটরসাইকেল।

গত ২০ নভেম্বর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় হাতিরঝিল থানার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে ডিএমপিতে থানা রয়েছে ৪৯টি। হাতিরঝিল হবে ৫০তম থানা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাতিরঝিল থানা অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন ভাড়ায় বাড়ি খোঁজা হচ্ছে। বাড়ি পেয়ে গেলেই থানার কার্যক্রম শুরু হবে। সব কিছুই প্রস্তুত রয়েছে।’

হাতিরঝিল প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে ৩০২ একর জমির ওপর। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে এক হাজার ৪৮ কোটি ও বাকি টাকা নির্মাণকাজে ব্যয় হয়। ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্প সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।  প্রকল্পের আওতায় চারটি সেতু, চারটি উড়াল সেতু, প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক, ২৬০ মিটার ভায়াডাক্ট (সেতুপথ) এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার হাঁটার পথ রয়েছে।

২০০৭ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এই প্রকল্প হাতে নেয়। রাজউকের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এটি বাস্তবায়ন করে। যানজট নিরসনে সহায়তার পাশাপাশি হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকা নগরবাসীর জন্য অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে বেড়াতে আসে।

এদিকে হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় অপরাধ তৎপরতাও দিন দিন বাড়ছে। কিছুদিন পর পরই এখানে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। লাশ উদ্ধারের ঘটনাও আছে। বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে এখানে সড়ক দুর্ঘটনার হারও নগরীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। গভীর রাতে বিশেষত সেতুগুলোর ওপর উচ্ছৃঙ্খল ছেলে-মেয়েদের মাদক সেবনসহ নানা অপরাধের খবরও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আবদুর রশীদ কালের কণ্ঠকে জানান, পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখতে পেয়েছে, বিশেষত মধ্যরাতের দিকে হাতিরঝিলে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনাই বেশি হচ্ছে। নতুন থানা হলে পুলিশের পক্ষে নানা ধরনের অপরাধ ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


মন্তব্য