kalerkantho


সুপ্রিম কোর্ট দিবসে রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রের তিন বিভাগের সমন্বয় জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, রাষ্ট্রের তিন বিভাগ অর্থাৎ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই এটা দরকার। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল রিভিউ ক্ষমতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করারও পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। আর মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে তথ্য-প্রযুক্তির (আইটি) সব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতেও বলেন তিনি।

বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি। দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি বিভাগকে সহযোগিতা ও আস্থার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো বিভাগের কর্মকাণ্ডে অন্য কোনো বিভাগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত যেন না হয়।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের সেসব অকুতোভয় বিচারপতি, যাঁরা বন্দুকের নলের কাছে নতিস্বীকার না করে এবং নিজেদের বিবেক বিকিয়ে না দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন, তাঁদের গভীর কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি।’

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ধনী-দরিদ্রের মাঝে বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দেন।’

রাষ্ট্রপতি আদালতগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে অনলাইন কজ-লিস্ট চালু হয়েছে এবং অনলাইন বেল কনফারমেশন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলছে। সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু কোর্ট অব রেকর্ড, সেহেতু এর সব নথি ডিজিটাল নথিতে পরিণত করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলখানা থেকে আদালতে আসামিদের উপস্থিত করা এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও জাজেস কমিটির সভাপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্প্যানিশ চেরির একটি চারা রোপণ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর আলোকসজ্জিত করা হয়। সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হয়। রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কিন্তু এত দিন দিবসটি পালন করা হয়নি। এবার থেকে নিয়মিত পালন করা হবে।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। এ দিনেই নিয়োগ দেওয়া হয় দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। কিন্তু দিনটি (১৬ ডিসেম্বর)  ছুটির দিন ঘোষিত হওয়ায় এক দিন পর ১৮ ডিসেম্বর বসে সুপ্রিম কোর্ট। এ কারণেই দেশের বিচার বিভাগের জন্য ১৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক দিন। প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পর এবারই ‘সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ নামে দিবসটি পালন করা হলো। তবে এ বছরের ১৮ ডিসেম্বর দিনটি আদালতের ছুটির মধ্যে পড়ায় (বার্ষিক অবকাশকালীন ছুটি) গতকাল তা পালন করা হলো। এর পর থেকে প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বরই পালন করা হবে।


মন্তব্য