kalerkantho


রাজশাহী রংপুর খুলনা বিভাগের বয়লার পরিদর্শক মাত্র একজন!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বয়লারভিত্তিক শিল্প-কারখানায় বয়লার প্রাণস্বরূপ। কোনো কারণে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটলে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। সারা দেশের শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত বয়লারের নিরাপদ চালনা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়।

দেশের চাল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য অটো রাইসমিল রয়েছে। এসব মিলে বয়লার ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন এই তিন বিভাগের জন্য একটিমাত্র আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এটি রাজশাহীতে অবস্থিত।

এই কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবলের সংখ্যা মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে উপপ্রধান পরিদর্শকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মাত্র একজন বয়লার পরিদর্শক খুলনা কিংবা রংপুরে অবস্থান করলে এই কার্যালয়টি শূন্য পড়ে থাকে। বেশির ভাগ সময়ই কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে পরামর্শ বা সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বয়লারভিত্তিক শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগে ৩৩১টি, খুলনা বিভাগে ২০৮টি, রংপুর বিভাগে ২৩৯টিসহ এই অঞ্চলে মোট বয়লারের সংখ্যা ৭৭৮টি। যার মধ্যে বেশির ভাগ বয়লার খুবই পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে। এই অঞ্চলগুলোতে বিগত দুই বছরে ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নওগাঁর রাম অটো রাইসমিল, দিনাজপুরের কালু হাজি অটো রাইসমিল, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার অটো রাইসমিল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজরুল অটো রাইসমিল, দিনাজপুরের যমুনা অটো রাইসমিল এবং কুষ্টিয়ার মণ্ডল অটো রাইসমিলে বয়লার দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

দেশের বৃহৎ একটি অঞ্চলের বয়লারসংশ্লিষ্ট শিল্প-কারখানায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজশাহী কার্যালয়ের উপপ্রধান বয়লার পরিদর্শকের পদটি দ্রুত পূরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।


মন্তব্য