kalerkantho


পবার দারুশা কলেজের সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এবার দুই শিক্ষককে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশা কলেজের সেই অবৈধ অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান এবার গুণ্ডাপাণ্ডা নিয়ে গিয়ে দুই শিক্ষককে কলেজে আটকে রেখে নানাভাবে অপদস্থ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা বোর্ডের পর সর্বোচ্চ আদালতেও অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসে থাকেন, যে কারণে আটকে আছে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা। বিষয়টি ইউএনওকে জানানোর অপরাধে এবার তিনি গুণ্ডাপাণ্ডা নিয়ে গিয়ে দুই শিক্ষককে অপদস্থ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিনের মতো দারুশা কলেজের ৮-১০ জন শিক্ষক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ক্লাস নিতে কলেজে যান। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে অন্তত ২০ জনের একটি দল কলেজে ঢোকে। তবে পরিস্থিতি খারাপ হবে টের পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক কৌশলে কলেজ থেকে বের হয়ে যান, কিন্তু থেকে যান বাংলা বিভাগের শিক্ষক ফরমান আলী ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষক ফেরদৌস আলম। তাঁদের দুজনকে শিক্ষক রুমে পেয়েই সাবেক অধ্যক্ষ মান্নান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম ওই কক্ষে ঢুকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। মান্নানের বিরুদ্ধে কেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে জানতে চেয়ে ওই দুই শিক্ষককে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল থেকে শুরু করে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। শিক্ষক কক্ষে আটকে রেখে শিক্ষক ফরমান আলী ও ফেরদৌসকে তাঁরা অপদস্থ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ফরমান আলী। পরে তিনি ওই কক্ষেই পড়ে থাকেন। পরে খবর পেয়ে পবা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ফরমান আলীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে রাজশাহীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে গতকালই বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করা হয়। 

শিক্ষকরা জানান, ক্ষমতার অপব্যহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, উচ্চ আদালত, সর্বোচ্চ আদালত থেকে দারুশা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নানকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরও তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপটে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। প্রতিদিন জোর করে কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসে থাকছেন। তাঁর অবর্তমানে রেহেনা বেগম নামের একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁকেও হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মান্নান। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় শিক্ষকরা গত নভেম্বর মাসের বেতন এখনো হাতে পাননি। ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল অভিযোগকারীদের হুমকি দিতে কলেজে গুণ্ডপাণ্ডাদের নিয়ে যান বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান।

তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। ওই শিক্ষক কিভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলতে পারব না।’

পবা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আটকে রাখা হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষকে পুনর্বহাল করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কলেজে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শিক্ষকদের অপদস্থ করার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের কারণে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না এটাও সঠিক।’ 

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি পবা দারুশা কলেজের বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের অপকর্ম নিয়ে কালের কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী খবর প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য