kalerkantho


বিনা অপরাধে এক মাস হাজতবাসের পর মুক্তি কৃষক নুরুল ইসলামের

ময়মনসিংহের দুই পুলিশ ক্লোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপরাধ না করেই প্রায় এক মাস জেল খাটলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম নবীন (৪৫)। অবশেষে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বের হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে বাড়ি ফেরেন।

জানা গেছে, খুলনা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আইনের ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় এত দিন ময়মনসিংহ কারাগারে ছিলেন নুরুল ইসলাম নবীন। এদিকে এ ঘটনায় ত্রিশাল থানার এএসআই বুলবুল হোসেনকে এবং কোর্টের কনস্টেবল মিজানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় জেল থেকে বের হয়ে কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, গত ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখ বাড়ির কাছে তিনি এক চায়ের দোকানে বসে পান খাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকার চৌকিদার তাঁর কাছে এসে তাঁর জামার কলার চেপে ধরেন। পরে ওই চৌকিদার তাঁকে এক পুলিশের হাতে দেন। সেই পুলিশ জানায় যে তাঁর নামে খুলনায় দুই বছর আগের এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশকে তিনি বারবার আকুতি-মিনতি করলেও পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ শামীম জানান, তাঁর বাবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা বাবাকে ছাড়াতে ত্রিশাল থানার এএসআই বুলবুলের সহযোগিতা চান। এএসআই বুলবুল তাঁকে কোর্টের পুলিশ কনস্টেবল মিজানের কাছে পাঠান। কনস্টেবল মিজান তাঁর কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৩০ হাজার টাকা চান। কিন্তু ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও মিজান এত কম টাকায় কাজ করতে রাজি হননি। এরপর গত সোমবার শামীম নিজে খুলনায় যান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে ওই মামলায় তাঁর বাবা নুরুল ইসলামের নাম নেই। তাঁর বাবার নামে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল সেটিও ছিল ভুয়া। আদালতের সীলমোহর ও ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরও জাল। বিষয়টি নিয়ে খুলনার আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টরের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপরই তাঁর বাবা গতকাল মুক্তি পান। ত্রিশাল থানা ওসি জাকিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের অফিস থেকে ত্রিশাল থানায় পাঠানো হয়েছিল। পরোয়ানার ভিত্তিতেই নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।


মন্তব্য