kalerkantho


উত্তরাঞ্চলে বাস্তুভিটাবঞ্চিত ৬০ লাখ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উত্তরাঞ্চলে বাস্তুভিটাবঞ্চিত ৬০ লাখ পরিবার

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ৬০ লাখ ভূমিহীন পরিবার বসতভিটার অধিকার থেকে বঞ্চিত। উত্তরের ১৬ জেলায় তিন লাখ ১৬ হাজার একরের বেশি খাসজমি রয়েছে। ওই জমির অর্ধেকের বেশি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে রেখেছে, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকার চাইলে বেদখল হয়ে থাকা ওসব জমি উদ্ধার করে অন্তত ১০ লাখ ভূমিহীনকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া যেতে পারে।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, অবৈধ দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধারে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলার কারণে উদ্ধারপ্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। উদ্ধার করা খাসজমিতে আদর্শ গ্রাম করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় ভূমি ও জরিপ রেকর্ড অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলায় খাসজমি রয়েছে মোট এক লাখ সাত হাজার ২৭২ দশমিক ৪১ একর। এর মধ্যে অকৃষি ৬০ হাজার ৮১৪ দশমিক ৬৫ একর। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় দুই লাখ ৯২ হাজার ৯৮২ একর খাসজমির মধ্যে অকৃষি রয়েছে এক লাখ আট হাজার ৯৮২ দশমিক ৭৪ একর।

অবৈধ দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধারে স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই জোরালো উদ্যোগ নেয়নি। বরং ভূমি ও জরিপ রেকর্ড অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দখলদারদের গোপন সমঝোতা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে হাউজিং ব্যবসায়ী, মহাজন, সরকারি আমলা, দাদন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, জোতদার, শিল্পপতিসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা জাল দলিল ও ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে খাসজমি অবৈধভাবে নিজেদের নামে নামজারি করে ভোগদখল করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া এসব খাসজমি থেকে ভূমিহীনকে বিতাড়িত করে ওই জমি দখলে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুরের ৪১ শতাংশ খাসজমিই গঙ্গাচড়া উপজেলায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ জমিই প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। এ ছাড়া কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের চতুরা মৌজায় ৮৩ একরের বেশি খাসজমি প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। দখলদাররা খাসজমির আকৃতি-প্রকৃতিই বদলে দিয়েছে অনেক জায়গায়। এর মধ্যে কিছু জমিতে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবাদি জমিতে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি এলাকায় প্রায় সাত একর জমি অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আছেন প্রভাবশালীরা। ভূমিহীনরা ওসব জমি তাদের নামে বরাদ্দের জন্য মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

 

ভূমিহীনদের নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ভূমিহীন মানুষ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য তারা নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করছে। পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলে দখল হয়ে যাওয়া এসব খাসজমিতে প্রায় ১০ লাখ ভূমিহীনকে বসতভিটা করে দেওয়া সম্ভব হতো।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসেই কিছু না কিছু খাসজমি উদ্ধার করছি। অনেক দখলদার আদালতে মামলা করেছে। মামলার কারণে বেশ কিছু জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। খাসজমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় আইনগত জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধার করা বড় খাসজমিতে আদর্শ গ্রাম করার পরিকল্পনার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য