kalerkantho


ফেলানী হত্যার সাত বছর

ন্যায়বিচারের আশা ছাড়েননি মা-বাবা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ন্যায়বিচারের আশা ছাড়েননি মা-বাবা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলো আজ রবিবার। কিন্তু নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার আজও পায়নি তার পরিবার। তবে আশা ছাড়েনি তারা। আগামী ১৮ জানুয়ারি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে করা রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত সেই শুনানিকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন ফেলানীর মা-বাবা।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘হাতে মেহেদি রাঙাতে যে মেয়েকে দেশে পাঠিয়েছিলাম, সেই ফেলানী বিএসএফের গুলিতে চিরবিদায় নিয়ে সাত বছর ধরে কবরে শুয়ে আছে। কবরের পাশে বসে হাহাকার করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। টিনের একটি ঘরে কোনো রকমে মাথা গুঁজে দিন কাটছে আমাদের। ঘরটির সামনের অংশে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালাই।’ তিনি জানান, নাখারগঞ্জ বাজারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিজিবির দেওয়া আরেকটি দোকান চালান ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। কিন্তু মূলধনের অভাবে ব্যবসা ভালো চলছে না।

বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বছরে আমি ফেলানী হত্যার বিচার পেলাম না। বিএসএফের আদালতে কান্নাকাটি করেছি। বিচার পাইনি। এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচার চেয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো রায় পাইনি।’

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ৯ নম্বর আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার দাবি করে দুটি রিট আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে দুই দফা শুনানির তারিখ পিছিয়ে গেলেও আগামী ১৮ জানুয়ারি শুনানির তারিখ রয়েছে। সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশাবাদী কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচারের নজির রয়েছে। কাজেই আমি আশাবাদী একটা ইতিবাচক রায় আসবে।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পার হতে গিয়ে অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে কাঁটাতারের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় ফেলানী। দেশে ও বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে বিএসএফ তাদের নিজস্ব আদালতে বিচারের মুখোমুখি করে অমিয় ঘোষকে। কিন্তু খালাস পেয়ে যায় অমিয় ঘোষ। এরপর ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সহায়তায় ফেলানী হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়।


মন্তব্য