kalerkantho


ওআরএফের বিশ্লেষণ

আইএসের প্রভাব দ. এশিয়ায় ক্ষীণ

মেহেদী হাসান   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আইএসের প্রভাব দ. এশিয়ায় ক্ষীণ

দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব ক্ষীণ। তা সত্ত্বেও ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে আইএসের বৈশ্বিক পদচিহ্নের ছায়া দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর আইএসপন্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ‘আইসিস খোরাসান’ মানচিত্রে এ অঞ্চলে আইএসের খেলাফত গড়ার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।

ইরাক ও সিরিয়ায় পিছু হটার পর আইএস আগামী দিনে কী রূপে আত্মপ্রকাশ করে তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় প্রভাবশালী নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ওআরএফের তথ্য অনুযায়ী, আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতে প্রায় ৮২টি মামলা চলমান আছে। তাদের মধ্যে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান বা লিবিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিতে আগ্রহের কথা অনলাইনে লিখেছে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছে। আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইরাক, সিরিয়া বা আফগানিস্তানে আইএসের জন্য অর্থ পাঠানোর অভিযোগ আছে।

তবে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমান জনগোষ্ঠীর ভারতে আইএসের জিহাদি পরিকল্পনা বা খেলাফতকে সেখানকার মুসলমানরা সমর্থন করেনি।

আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে আইএসের প্রভাব জোরালো এবং একে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওআরএফের প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। আইএসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ওই হামলায় ছুরি ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস।

সাবেক এক সামরিক কর্মকর্তা তাঁর নিজের পরিবারের একজন সদস্যের আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়ার কথা ওআরএফের গবেষককে জানিয়েছেন।

ওআরএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান পরিস্থিতি আরো অনেক জটিল। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী (ডুরান্ড লাইন) নিয়ন্ত্রণহীন এলাকায় আইএসের অস্তিত্ব আছে। ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসানের (আইএসকেপি) বেশির ভাগ যোদ্ধাই পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) সাবেক সদস্য। ফাতা ও ওয়াজিরিস্তানের মতো উপজাতি এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতে তারা পালিয়েছে। আফগানিস্তানে রাজনৈতিক শূন্যতা এবং সামাজিক-ধর্মীয় বিভাজন আইএসের বিকাশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ওআরএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলোর স্থানীয় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক জটিলতার কারণে আইএসের প্রভাব একেক স্থানে একেক রকম। আগামী কয়েক মাসে আইএস আরো বেশি জঙ্গি-সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে পারে।

কিছু গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইএস নেতারা গোপনে অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে অর্থ পাঠাচ্ছে। তেল চোরাকারবারির মাধ্যমে দৈনিক ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় এগুলোর অন্যতম। ইরাক ও সিরিয়া এবং ওই দুই দেশের বাইরে জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলা চালাতে আইএস ওই অর্থ জোগাড় করছে। অন্যদিকে আইএসের নেতৃত্ব দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্টারনেট আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে থাকছে।

ওআরএফের মতে, আইএসের ঝুঁকি মোকাবেলায় মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি আইএসপন্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্যাংকিং, ভ্রমণ ও অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর নজরদারি থাকা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে ভারত তার দেশের লোকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএসপন্থী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা দিতে পারে। তবে পাকিস্তান নিজেই রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাস চালানোয় তাকে নিয়ে আঞ্চলিক উদ্যোগ কত দূর সম্ভব তা নিয়েও শঙ্কা আছে বলে মন্তব্য করেছে ওআরএফ।


মন্তব্য